২৫ ঘণ্টার অপেক্ষার অবসান, কিন্তু ফিরল না ছোট্ট পাতিন — কচুক্ষেতে মিলল নিথর দেহ, শোকে স্তব্ধ সন্দ্বীপ।
শাহাদাত হোসেন,সন্দ্বীপ প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবারের বুকভরা আশা আর হাজারো মানুষের প্রার্থনা শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো হৃদয়বিদারক বেদনায়। নিখোঁজের ২৫ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের একটি কচুক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ পাতিনের মরদেহ।
পাতিন কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ ফরহাদের ছেলে এবং স্থানীয় বাইতুল আমান মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। শনিবার দুপুর ১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যায় সে। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
বিকেল গড়াতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে পাতিনের নিখোঁজ হওয়ার খবর। এরপর স্বজনদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। ছোট্ট শিশুটিকে ফিরে পাওয়ার আশায় রাতভর চলে অনুসন্ধান। কেউ মাঠে, কেউ ঝোপঝাড়ে, কেউ আবার বিভিন্ন বাড়িতে খোঁজ নিতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু কোথাও মিলছিল না তার কোনো চিহ্ন।
অবশেষে রোববার দুপুর ১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি কচুক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় পাতিনের নিথর দেহ। মুহূর্তেই আনন্দের প্রত্যাশা বদলে যায় কান্না আর আহাজারিতে। স্বজনদের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
খবর পেয়ে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সন্দ্বীপ থানার ওসি সুজন হাওলাদার। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ছোট্ট পাতিনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু তার পরিবারকেই নয়, নাড়া দিয়েছে পুরো সন্দ্বীপবাসীকে। যে শিশুর হাসিতে মুখর থাকার কথা ছিল উঠান, সেই শিশুর নিথর দেহ ফিরে আসায় আজ শোক ও বেদনায় স্তব্ধ একটি জনপদ।

