১৯দিনের নবজাতক রাবেয়া হত্যার ঘাতক মা’র স্বীকারোক্তি !

Share the post

প্রিয়ন্ত মজুমদার, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ অভাবের এক সংসারে জন্ম নিয়েছিল রাবেয়া আমার মেয়ে, মানষিক চাপে পড়ে জন্মের ১৯ দিন পরে বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি খালে আমার কন্যা সন্তানকে ফেলে দিয়েছি আমি। শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার সিনিয়র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বেগম রোকেয়া আক্তারের আদালতে এই স্বীকারোক্তিটি প্রদান করেন আয়েশা আক্তার রত্না(২০)।

মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানায় অবস্থিত টনকী ইউনিয়নের বাইড়া গ্রামে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রভাব বিরাজ করছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শিশুটির দাদাভাই বাচ্চু মিয়ার সাথে এই প্রসঙ্গে আলোচনা করলে তিনি বলেন, ” আমার বড় ছেলে মুজিবুর রহমান ও মেঝ ছেলে সজিবুর রহমান প্রবাসে থাকে। বড় ছেলে এখন ঠিকমতো বেতন পান না, মেঝ ছেলেটিও সড়ক দূর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে বিদেশের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমাদের এই সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে আমি এখনো কাজ করি। পূর্বের সকল দিনের মতো ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবারে জমিতে কাজ করতে গিয়েছিলাম আমি। কাজ শেষে বাড়িতে এসে শুনি আমার ১৯ দিনের নাতনি বসরীকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। নানান জায়গায় খোঁজাখুজি করেও না পাওয়ায়, আমি থানায় গিয়েও সাধারণ একটি ডাইরী করেছিলাম। পরেরদিন শুক্রবার দুপুরবেলা বাড়ির পাশে অবস্থিত খালের পানিতে বসরীর লাশ ভেসে উঠতে দেখা গিয়েছিল। এই খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িতে আসে ও লাশের সাথে আমাদের সবাইকে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। সবার সাথে এই প্রসঙ্গে আলোচনা শেষে আমাদেরকে ছেড়ে দিয়ে শুধুমাত্র আমার পুত্রবধু রহিমা আক্তার রত্মার সন্দেহমূলক কথায় তাকে থানায় রেখে দিয়েছিল পুলিশ। পরদিন শনিবার সকালে জানতে পেরেছিলাম, রহিমা নাকি স্বীকার করেছে যে, সে নিজেই আমার নাতনিকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছে। তবে, বিগত বেশ কিছুদিন যাবৎ সে একা একা বিভিন্ন স্থানে বসে সময় যাপন করতো। আমাদের সাথে তেমন একটা কথা বলতো না। কেনো এই প্রকার আচরণ করছে এই কথা আমারা জানতে চাইলে উত্তর দিতে চাইতো না সে। ”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(মুরাদনগর সার্কেল) মীর আবিদুর রহমান বলেন, ” গত বৃহস্পতিবারেই শিশুটিকে না পাওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষনিক তার বাড়িতে যাই আমরা। প্রথম থেকেই শিশুটির মা রত্মা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলছিলেন। তার মানষিক অস্থীরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। পরে সে স্বীকার করেছে, নানা রকম চিন্তায় পড়ে জিদ করে তার কন্যাকে পানিতে ফেলে দিয়েছিল। যেটি আদালতেও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। এই ঘটনায় রাবেয়ার দাদা বাচ্চু মিয়া মামলার বাদী হয়েছেন। কুমেক হাসপাতাল থেকে নিহত রাবেয়ার ময়না-তদন্ত শেষে শনিবার বিকেলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে বসতঘরে আগুন, ক্ষতি ২ লাখ টাকা

Share the post

Share the postমো: রিপন হোসেন,ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে একটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের পাল্লি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা […]

মাগুরার শ্রীপুরে সাচিলাপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

Share the post

Share the postজিল্লুর রহমান সাগর,মাগুরা প্রতিনিধি:মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচিলাপুর বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাজারের একটি বড় ইলেকট্রনিক্স ও স্যানিটারি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সাচিলাপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: […]