ফাহাদুল ইসলাম, সোনারগাঁ :মেঘনায় পুনরায় বালু উত্তোলন কাদের স্বার্থে? জনগণের নাকি ব্যক্তি স্বার্থে প্রশ্ন উঠেছে আনন্দবাজার হাটের দোকানদারদের, কি আছে মেঘনা নদীর বালিতে এত স্বাদ কেন?
নিষেধাজ্ঞার পরেও সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদী থেকে উত্তোলন করতে হবে?
অথচ ঝুঁকিতে ঐতিহাসিক আনন্দবাজার হাটসহ ১০টি গ্রাম।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নে অবস্থিত শতবর্ষী আনন্দবাজার হাট ও এর সংলগ্ন বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও শিল্পকারখানা বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে। যা শত বছরের ঐতিহ্য। মেঘনা ব্রিজ এর সোনার গাঁও অংশ ও গজারিয়া অংশের সাত কিলো মিটারের মধ্যে ভালো উত্তরণের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইউএনও’র নির্দেশেই কাটা হচ্ছে বালু, ঝুঁকিতে পড়ছে শিল্প কারখানা সহ দশটি গ্রাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদী থেকে পুনরায় বালু উত্তোলন এবং অতিরিক্ত খনন কার্যক্রমের ফলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, যা ঐতিহাসিক এই হাটসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামকে বিলীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, ২০২২ সালে বিআইডব্লিউ-এর অনুমতি নিয়ে নদীর একটি নির্দিষ্ট স্থানে গভীরভাবে খনন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে একই স্থানে বারবার খনন কার্যক্রম পরিচালনার ফলে নদীর তলদেশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পুনরায় খনন বা বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে খংসার্দী, দামোদরদী, আমিরাবাদ, ছোনপাড়াসহ অন্তত ৪ থেকে ৫টি গ্রাম এবং ঐতিহাসিক আনন্দবাজার হাট অচিরেই মেঘনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
হাটে আগত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বলেন, “এই হাট আমাদের জীবিকা ও ঐতিহ্যের অংশ। যদি এটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়, তাহলে আমরা শুধু আর্থিকভাবেই নয়, ইতিহাস-ঐতিহ্য হারানোর বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন এটি বিআইডব্লিউ অধীনেই কাটা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বলেন, বালুকাটার বিষয়টি আমি অবগত আছি এবং একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানে সভাপতি সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত। আপনারা সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে ইউএনও’র সাথে আলোচনা করেন।

