জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :সিরাজগঞ্জ সদর-কামারখন্দ আসনে বিএনপির রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ। জেলা শহরজুড়ে ঘুরে ঘুরে এক আলোচনাই এখন সবচেয়ে বেশি—এই আসনে বিএনপির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাচ্ছে- দলের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে মাঠের বাস্তবতা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
অভিযোগ আছে, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, বিএনপির প্রচারণা ততই দুর্বল হচ্ছে। ফেসবুকে সক্রিয়তা থাকলেও সরাসরি মাঠে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা প্রতিদিনই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, বাড়াচ্ছেন জনসংযোগ।
৫ আগস্টের ঘটনার পর বিএনপির একাংশের বিরুদ্ধে গণহারে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রকাশ্যে বলছেন, “লুটপাটে আওয়ামী লীগের চেয়ে কোন অংশে কম নয় বিএনপি।” রাজনীতিতে বারবার প্রতারিত হওয়ায় ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার ভিন্ন প্রার্থী নির্বাচন করতে চাইছে বলেও শোনা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১৫ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা ত্যাগী নেতা–কর্মীদের অনেকে নতুন কমিটিতে জায়গা পাননি। বরং আওয়ামী লীগ আমলে সুবিধাভোগী, এমনকি মাদক ব্যবসায়ীরাও নব্য কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে পদবঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিজ্ঞ নেতাদের আশঙ্কা—“এই ক্ষোভ যদি নির্বাচনের আগে বিস্ফোরিত হয়, তবে সিরাজগঞ্জ–২ আসনে ভরাডুবি অনিবার্য।”
বিএনপির কোন্দল এবং মাঠে দুর্বল কার্যক্রমের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। ফলে ঐতিহ্যবাহী বিএনপি ঘাঁটিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখনো সময় আছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের দ্রুত ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতা–কর্মীদের নিয়ে মাঠে নেমে ঘরে ঘরে প্রচারণা চালাতে হবে। ভুল সিদ্ধান্ত, অসৌজন্যমূলক আচরণ বা অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা—এগুলোর যেকোনোটি সিরাজগঞ্জ–২ আসনে বিএনপিকে বড় ধাক্কা খাওয়াতে পারে।
সতর্কবার্তাটি স্পষ্ট—এবারের নির্বাচন অতীতের তুলনায় কঠিন সামান্য ভুলেই হাতছাড়া হতে পারে বিএনপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি এই আসন

