জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার নলকা ইউনিয়নের পশ্চিম মথুরাপুর গ্রামে জোরপূর্বক জমি দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, জমি দখলে বাধা দেওয়ায় এক নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী জুলেখা বেগম (৩৮) বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে সলঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে পশ্চিম মথুরাপুর গ্রামের মো. আবু সাঈদের ছেলে মো. লিটন (৩০), আব্দুর রাজ্জাক (৪০), মেনহাজ আলী (২৮), তার স্ত্রী হাফিজা খাতুন (৫০), মো. ছমের আলী শেখের ছেলে বাবু মিয়া (৪৫), মিনু মিয়া (৪০), রেজাউল করিম (৩৫), আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩৫), আবু সাঈদের ছেলে এশারত আলী (২৮), বাবু মিয়ার ছেলে বিতান আলী (১৯), লিটনের মেয়ে আন্না খাতুন (২৫) ও এশারত আলীর স্ত্রী লাবনী খাতুন (২২)সহ আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জুলেখা বেগম অভিযোগে জানান, সলঙ্গা থানার নলকা ইউনিয়নের সুজাপুর মৌজায় তার স্বামীর ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া প্রায় ২০ শতক জমির মধ্যে ১২ শতক জমিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে টিন ও বাঁশ দিয়ে বসতবাড়ি নির্মাণ শুরু করেন অভিযুক্তরা। এতে বাধা দিতে গেলে বাবু গংয়ের নির্দেশে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারা হয়। একপর্যায়ে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম জাফর দ্য ডেইলি স্কাইকে বলেন, “অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমানকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি বিস্তারিত জানতে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গ্রামের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিযোগে উল্লিখিত নারীদের গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি সত্য বলে তিনি স্বীকার করেন।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

