সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন হবে: শিক্ষামন্ত্রী
২০২৩ সাল থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এছাড়া, ২০২৪ সাল থেকে নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
শনিবার মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে নতুন পাঠ্যসূচির পাইলটিংয়ের জন্য নির্বাচিত ৬২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “২০২৩ সাল থেকে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই দিন করে সপ্তাহিক ছুটি থাকবে। পাশাপাশি নতুন পাঠক্রমে যারা যুক্ত হচ্ছেন তারাও এখন থেকেই সপ্তাহে দুদিন ছুটি পাবেন।”
তিনি আরো বলেন, “শুধু জ্ঞান নয়, এর সাথে দক্ষতা অর্জনই মূলত নতুন পাঠ্যসূচির লক্ষ্য। সেটি বাস্তবায়নেই আমাদের আগামী দিনের পথচলা।
২০১৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম তৈরির কাজ শুরু করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি। বর্তমানে ৬২টি স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রমের পাইলটিং শুরু হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয় নতুন বই। আর মার্চের প্রথম সপ্তাহে প্রথম শ্রেণির বেশ কিছু স্কুলেও পাইলটিং শুরু হবে।
এসময় মন্ত্রী আরো জানান, ২০২৪ সাল থেকে নবম শ্রেণিতে কোন বিভাগ থাকবে না। ধাপে ধাপে সাধারণ শিক্ষায় একটি-দুটি করে কারিগরি কোর্স সংযোজন করা হবে।
আগের পাঠক্রমে সঠিক গন্তব্যের দিকনির্দেশনা ছিল না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা দেখব নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা দক্ষতাসম্পন্ন হচ্ছেন কি না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুযায়ী সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছেন কি না। সেটি এখন দেখার বিষয়।
“আগের পাঠক্রমে সঠিক গন্তব্যের দিকনির্দেশনা ছিল না। সে নির্দেশনার বাস্তবায়ন করতেই নতুন পাঠক্রম প্রণয়ন করা হয়েছে।”
আমরা দীর্ঘদিন পর নতুন একটি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে চাচ্ছি। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলছেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জরুরি। এসময় মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে নিয়ে আসার তাগিদ দেন।
২০২৩ সালে প্রথম, ২য়, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে। ২৪ সালে ৩য়, ৪র্থ ও ৯ম শ্রেণি এবং ২৫ সালে ৫ম এবং ১০ম শ্রেণির শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী। এসময় অন্যদের মধ্যে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. ফরহাদুল ইসলাম ও সদস্য (শিক্ষাক্রম) মো. মশিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

