নাফিসা আনোয়ার নাবিলা,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: শরৎ নামে নীরবতা বয়ে নিয়ে, নীল আকাশে ভেসে ওঠে তুলোর মতো সাদা মেঘের ছন্দ। তার সঙ্গে মিশে যায় শুভ্র কাশফুলের অনন্ত সৌন্দর্য। সেই সৌন্দর্যের বর্ণিল আবেশে এ সময় যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ।চারদিকে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দুলে ওঠা কাশফুল যেন শুভ্র ঢেউয়ের সমুদ্র। হাওয়ায় ভেসে আসা সেই দোল শিক্ষার্থীদের মনে আনে প্রশান্তির ছোঁয়া। কেউ ছবি তোলে, কেউ কবিতার ছন্দে হারিয়ে যায় তবু সবার ভেতরে জন্ম নেয় এক অদ্ভুত মুগ্ধতা, যেন প্রকৃতি নিজেই এ ক্যাম্পাসকে অলংকারে সাজিয়ে দিয়েছে।
শরতের রোদের আলোয় কাশফুলের শুভ্রতা মনে হয় একেকটি সাদা স্বপ্ন। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে শিক্ষার্থীরা সেই স্বপ্নের ভেতরে খুঁজে নেয় শান্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি পথ, প্রতিটি কোণ যেন এই ঋতুতে নতুন রূপকথার গল্প বলে।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, স্থানীয় মানুষও শরতের এই মায়াবী দৃশ্যে হারিয়ে যান। তাদের চোখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় তখন কেবল শিক্ষাঙ্গন নয়, বরং শরতের এক স্বপ্নরাজ্য।কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শরৎকালকে যে ‘শ্যামল অঙ্গ’ আর ‘অমল শোভা’-র প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কীর্তনখোলা নদীর পাশে অবস্থিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কাশফুলে ঢাকা প্রাঙ্গণ যেন তারই এক মূর্ত রূপ। প্রকৃতি যেন প্রতি বছর শরতের কাশফুল দিয়ে আকাশ থেকে নামিয়ে দেয় একটুকরো সাদা কবিতা যা লিখে যায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকজুড়ে।

