ফাহাদ, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায় লারিজ ফ্যাশন লিমিটেড গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে নীলা নামের এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গত রবিবার ২ অক্টোবর লারিজ ফ্যাশনের সুইং অপারেটরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন।
সহকর্মীদের কাছ থেকে জানা যায়- কিশোরগঞ্জের দুলাল মিয়ার মেয়ে রিনা দীর্ঘদিন যাবত লারিজ ফ্যাশন লিমিটেড কোম্পানির পোশাক শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল। গত রবিবার কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে অসুস্থতা অনুভব করেন। ছুটির জন্য ফ্লোর ম্যানকে বলেন। ফ্লোর ম্যান বিষয়টি কর্ণপাত না করে কর্মে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। দুপুর ঘনিয়ে আসলে তার শারীরিক অবস্থা আরো অবনতি হতে থাকে। কিন্তু কারো তার অসুস্থতার ভয়াবতা অনুভব হয়নি। ফলে লাঞ্চ বিরতিতেও তাকে দিয়ে অমানবিক ভাবে কাজ করানো হয়। এদিকে তার শারীরিক অবস্থা আরো ভয়ানক হতে থাকে।
বিকেল ঘনিয়ে আসলেও তার ছুটি মেলেনি, ফলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে সে জ্ঞান হারিয়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে। এমতঅবস্থাতেও ফ্লোরম্যান বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি, বলছিল তার মিরকি ব্যারাম আছে, কিছু হবে না, সুস্থ হয়ে যাবে। যখন তার পড়ানো কাপড় নষ্ট হয়ে যায় তখন তাকে মেডিকেলে পাঠানোর জন্য বলা হয়, এতক্ষণে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে যায়। তাড়াহুড়া করে তাকে হসপিটালে নিয়ে যায় এদিকে গার্মেন্টস ছুটি হয়ে যায়। তার অবস্থা সম্পর্কে কেউ জানতে পারেনি।
কিন্তু সোমবার ৩ অক্টোবর অফিস টাইমে যখন তার মৃত্যুর খবর সহকর্মীদের কাছে ছড়িয়ে পড়ে তখন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক মদনপুর ইস্টান অবরোধ করে দেয়। সহকর্মীরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করার ফলে ঢাকা মুখী ও চট্টগ্রাম মুখী দুনো লাইনে তীব্র যানজট লেগে যায়। প্রায় দুই লাইনে ১০ কিলো যানজট দেখা যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শ্রমিক বলেন, আমাদের সহকর্মী অসুস্থ ছিল। সে বারবার ছুটি চেয়েছে, কিন্তু ছুটি দেয়নি। এর দায় নিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। এমনকি পানি খেতে চাইলেও খাওয়ার সুযোগ টুকু তাকে দেওয়া হয়নি।
আরেক শ্রমিক জানান, আমরা ন্যায্য তদন্ত ও বিচার চাই। যতক্ষণ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেয়, আমরা সড়ক ছাড়ব না।খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর হেভি ওয়েট একটি দল ও হাইওয়ে পুলিশ সহ স্থানীয় থানা পুলিশের উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। দীর্ঘ আড়াই ঘন্টার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এদিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও সেনাবাহিনী মুখোমুখি হন ও তাদের দাবি-দাওয়া মেনে নেন। কিন্তু তাদের দাবি দাওয়ায় সন্তুষ্ট না বলে শ্রমিকরা আবারও তোলপাড় শুরু করেন। পরে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদেরকে যার যার বাসস্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং পরবর্তী আর কোন হট্টগোলের সাথে জড়িত না হওয়ার কঠিন হুঁশিয়ারি দেন। তদন্তপূর্বক পুলিশের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান।

