রূপগঞ্জে গাজরা ফুলের সুবাসে সচ্ছলতার স্বপ্ন: মালা গেঁথে ভাগ্যবদল শত শত নারীর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাজরা মালা গাঁথার কর্মব্যস্ততা
বি এম আবুল হাসনাত বাপ্পী, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় গাজরা ফুল দিয়ে মালা তৈরির কর্মব্যস্ততা। এসব গ্রামে গাজরা ফুল চাষ ও মালাগাঁথা স্থানীয় মানুষের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফুল তোলা থেকে শুরু করে মালা গাঁথা এবং বাজারে বিক্রি করা—পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবারের শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত থাকছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের ঘরে বসে আয়ের এটি একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি করেছে।
রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের নারসিঙ্গল, তারাবো পৌরসভার বোচারবাগ, বংশিনগর, দেবই ও গন্ধর্বপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এখন বাণিজ্যিকভাবে গাজরা ফুল গাছের চাষ হচ্ছে। গ্রামগুলোতে ঢুকলেই চোখে পড়ে বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার পাশে কিংবা পতিত জমিতে গাজরা ফুলের সমারোহ। মহিলা, পুরুষ ও বাচ্চারা বাগান থেকে তাজা গাজরা ফুল সংগ্রহ করে ঘরে বসেই সযত্নে মালা গাঁথছেন। তাদের দক্ষ হাতে একেকটি মালা হয়ে ওঠে সুগন্ধি আর সৌন্দর্যের প্রতীক। অন্যদিকে গ্রামের পুরুষরা এসব মালা বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। ফলে সংসারের আয়-রোজগারে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও পরোক্ষভাবে যুক্ত হচ্ছেন।
গাজরার মালার প্রধান ব্যবহার মেয়েদের সাজসজ্জায়। বিয়ে বা বিভিন্ন উৎসবে বাঙালি নারীদের খোপায় গাজরা লাগানোর ঐতিহ্য শত বছরের। তাই স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলেও রূপগঞ্জের গাজরা মালার যথেষ্ট কদর রয়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে মানভেদে সাধারণত ৪০-১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয় একেকটি মালা। উৎসবের মৌসুমে এই চাহিদা ও দাম দুই-ই আরও বেড়ে যায়।
গ্রামবাসীর ভাষ্যে, এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া গাজরা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। গাজরা ফুলের মৌসুমে এই মালা বিক্রি করে তারা বাড়তি আয় করতে পারেন। এতে একদিকে যেমন পারিবারিক খরচ মেটাতে সুবিধা হয়, তেমনি অন্যদিকে স্থানীয় নারীরাও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে এই গাজরা ফুল চাষ ও মালা তৈরির কাজ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে গ্রামের নারীদের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।

