রাঙ্গুনিয়ায় কেক বানিয়ে সফল নারী উদ্যোক্তা দুই বোন

Share the post

তৌহিদুল ইসলাম,রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : কেক পেস্ট্রি- শুনলে মানস পটে ভেসে ওঠে সুস্বাদু এক খাবারের চিত্র। কিন্তু এই কেক বা পেস্ট্রির উপরে যে নকশাচিত্র আমরা দেখতে পাই সেখানেও লুকিয়ে থাকতে পারে হাজারো গল্পগাঁথা। নাজমুন ও নিশাত এর তৈরি কেক থেকে গ্রাহকের মনে এমন ধারণা তৈরি হয়।নাজমুন ও নিশাত বয়সে তরুণ। নাজমুন জিওলজি চট্টগ্রাম কলেজ শিক্ষার্থী এবং নিশাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি তে পড়াশোনা করছে। কিন্তু এগুলো তাদের পরিচয় নয়। তাদের পরিচয় আপন শৈলীতে। তাদের তৈরি কেক মানেই সেখানে নকশায় থাকবে কোনো না কোনো কল্পগল্প। কেকের মিষ্টি স্বাদের পাশাপাশি যেখান থেকে গ্রাহক পেতে পারেন সাফল্য, সম্ভাবনা, বহুদূর যাওয়ার অনুপ্রেরণা। দুই বোনের বাসায় বসে এমন শিল্পিত কেক বানিয়ে এই বয়সেই রীতিমত বিখ্যাত। বলা যায়, কেক বানিয়ে তারা এখন লাখপতি। ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে তাদের এই সাফল্যের গল্পের সূচনা। এখন সাফল্য ছড়িয়েছে রাঙ্গুনিয়া জুড়ে। সবচেয়ে সুস্বাদু আর শৈল্পিক কেক, পেস্ট্রি আর ডেজার্ট বানানিযে রাঙ্গুনিয়ায় রীতিমতো সাড়া পেয়েছেন।

নাজমুন ও নিশাত ৪ বোনের মধ্যে সবার বড় এবং মেজ। কিন্তু তাদের সাফল্য সমাজে এখন অনেকের পাথেয়। যদিও তাদের নেই কোনো ফ্যাক্টরি, দোকান কিংবা শোরুম। রয়েছে এই একটিমাত্র ফেসবুক পেইজ-Fatema’s Cake&Art । এই পেইজের মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত ফোনে কেকের অর্ডার নেন তারা। এরপর চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে যে কোনো অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বড় বড় কর্পোরেট হাউজের অনুষ্ঠানের জন্যও তারা কেকের অর্ডার পান।সর্বনিম্ন ½ পাউন্ড , সর্বোচ্চ 25 পাউন্ড পর্যন্ত কেক বাসায় বসেই বানাতে পারেন তারা। প্রতি পাউন্ড কেকের মূল্য সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা। নাজমুন জানান, ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকেই তারা রাঙ্গুনিয়ায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে কেকের অর্ডার নিতে শুরু করেন।আম্মুর কাছ থেকেই তার কেক বানানো হাতে খড়ি।এরপর নাজমুন সবার চেয়ে আলাদা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ কেক কীভাবে বানানো যায় সে বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যাবসায়ের প্রতি আস্থা রেখে ঘরে বসে কেক বানিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু করেন।

নিশাতবলেন, ‘অত্যন্ত হাইকোয়ালিটির,ব্রান্ডের প্রোডাক্ট দিয়ে কেক বানাই।সামান্য লাভের উদ্দেশ্যে আমরা কখনও বাজারের খোলা ময়দা-চিনি কিংবা ক্রিম ব্যবহার করিনা।কারণ শুধুমাত্র আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে আমরা বিজনেস করিনা।তাইতো কেকফ্যাক্টরিতে ক্রিম হিসেবে মার্জারিন ও ডালডা ব্যবহার করলেও আমরা ব্রান্ডের বাটার-চিজ-হুইপড ক্রিম,চকোলেট বার দিয়ে কেক বানাই,ছোট বেলা থেকেই দেখতাম কোনো অনুষ্ঠানে কেক কাটলে উপর থেকে ক্রিম ফেলে দিয়ে কেক খেত,মানুষের এই সমস্যা উত্তরণের চেষ্টায় আছি।আমাদের উদ্দেশ্য রাঙ্গুনিয়ার মানুষের কাছে উন্নত মানের কেক তুলনামূলক কম টাকায় হাতের কাছে এনে দেওয়া’। নিশাত আরো জানান, প্রথম দিকে সপ্তাহে ১-২ টা কেকের অর্ডার আসত,তবে কোন কোন সপ্তাহে এমনও হতো যে কোন অর্ডারই আসেনি।তবে এখন দিনে ৩-৪টা অর্ডার থাকে’।প্রতিমাসে তার আয় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া নাজমুন ও নিশাত তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ‘ভবিষ্যৎ কেবল আল্লাহই ভালো জানেন।তবে ইচ্ছে আছে রাংগুনিয়াতে Fatema’s Cake&Art এর আউটলেট খোলার এবং তা পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া।কেক বানানোর উদ্দেশ্য টাকা আয় করা নয়। আমাদের কাছে এটা একটি শিল্প। এটা আমাদের ভালোবাসা। আমারা এই ভালোবাসার সাথেই থাকতে চাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে বসতঘরে আগুন, ক্ষতি ২ লাখ টাকা

Share the post

Share the postমো: রিপন হোসেন,ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে একটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের পাল্লি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা […]

মাগুরার শ্রীপুরে সাচিলাপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

Share the post

Share the postজিল্লুর রহমান সাগর,মাগুরা প্রতিনিধি:মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচিলাপুর বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাজারের একটি বড় ইলেকট্রনিক্স ও স্যানিটারি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সাচিলাপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: […]