ইবি প্রতিনিধি : রঙের উচ্ছ্বাস, আবিরের ছোঁয়া আর প্রাণখোলা হাসিতে মুখরিত হয়ে ওঠেছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস। দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব হোলিতে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় দোল পূর্ণিমা বা হোলি উৎসব। এ উপলক্ষে পূজা-অর্চনা, প্রসাদ বিতরণ ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অবস্থিত অস্থায়ী মন্দির কক্ষে ঘট স্থাপনের মাধ্যমে পূজার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে গান, নাচ আর রঙের খেলায় দিনভর উৎসবের আমেজে রাঙা হয়ে ওঠে পুরো টিএসসিসি প্রাঙ্গণ।
এ সময় বিভিন্ন রঙের আবির হাতে নিয়ে হোলি খেলায় মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। কারও গাল-মুখে, কারওবা সারা গায়ে লেগে থাকে রঙের ছটা। কেউ স্বেচ্ছায় রঙ মাখছেন, আবার কেউ হাসি-ঠাট্টার মধ্য দিয়ে একে অপরকে রঙে রাঙিয়ে দিচ্ছেন। ভিন্নতার ঊর্ধ্বে উঠে এ যেন এক অনন্য সম্প্রীতির দৃশ্য। আনন্দঘন এই আয়োজনে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, দোল উৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই দিনে শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধা ও গোপীদের সঙ্গে রঙের খেলায় মেতেছিলেন, যা পরবর্তীতে দোলযাত্রা বা হোলি উৎসবে রূপ নেয়। বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কাছে দিনটি বিশেষভাবে পবিত্র, কারণ এই দিনেই আবির্ভাব হয়েছিল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু-এর। দোল পূর্ণিমা জীবন থেকে বিভেদ দূর করে ঐক্য, ভালোবাসা ও ভক্তির বার্তা দেয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, হোলি উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভক্ত প্রহ্লাদের অসুররাজ হিরণ্যকশিপু-এর বিরুদ্ধে বিজয়ের কাহিনি। এটি শুভ শক্তির জয় ও অশুভ শক্তির পরাজয়ের প্রতীক, যা বিশ্বজুড়ে ন্যায় ও সত্যের বার্তা পৌঁছে দেয়।
উৎসব প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি পঙ্কজ রায় বলেন, “আমরা আজ দিনব্যাপী প্রার্থনা ও উৎসবের আয়োজন করেছি। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে গেছে। তবে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রায় সবাই অংশ নিয়েছেন। এ বছর রমজান মাস চলমান থাকায় আমরা ছোট পরিসরে আয়োজন করেছি।”
সব মিলিয়ে সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও আনন্দের বার্তা নিয়ে ইবি ক্যাম্পাসে উদযাপিত হলো দোল পূর্ণিমা।

