সৈয়দ আব্দুস সালাম পান্না, সাতক্ষীরা : ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে যখন নতুনের দোলা, ঠিক তখনই ১৫ ফেব্রুয়ারি ২৮ বছর পেরিয়ে ২৯-এ পা রাখল দৈনিক মানবজমিন। এ উপলক্ষে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ফাল্গুনের এক সোনালি সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে কেক কাটা ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে পালিত হলো পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
বসন্তের এই স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই দাপুটে যুগে যেখানে মুহূর্তেই গুজব ডালপালা মেলে, সেখানে মানবজমিন গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে সত্যের অবিচল বাতিঘর হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। চটকদার সংবাদের পেছনে না ছুটে সাধারণ মানুষের হৃদস্পন্দন ও ‘খবরের ভেতরের খবর’ তুলে এনেছে বলেই পত্রিকাটি আজ গণমানুষের আস্থায় পরিণত হয়েছে।
ফাল্গুনের সন্ধ্যায় প্রাণের মেলা বসেছিল ম্যানগ্রোভ সভাঘরে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনন্দ উৎসব। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে এবং বাংলানিউজের তানজির আহমেদের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই প্রাণের মেলায় স্বাগত জানান মানবজমিনের জেলা প্রতিনিধি এসএম বিপ্লব হোসেন।
বসন্তের হাওয়ার মতোই ঝরঝরে আলোচনায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, মানবজমিন কেবল একটি পত্রিকা নয়, এটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় এক সাহসী ও আধুনিক ধারার জনক। বিশেষ করে মফস্বলের নিভৃত পল্লির সমস্যা ও সম্ভাবনাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতে এই পত্রিকার ভূমিকা অনন্য। সত্য প্রকাশে আপসহীন থেকে ২৯ বছরে পদার্পণ করা সাংবাদিকদের জন্য গর্বের বিষয়। অনুষ্ঠানটি রূপ নিয়েছিল প্রবীণ ও নবীন সাংবাদিকদের এক অঘোষিত মিলনমেলায়। আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, প্রবীণ সাংবাদিক এড. আবুল কালাম আজাদ এবং মমতাজ আহমেদ বাপি বলেন, সাহসের সাথে সত্য প্রকাশ করাই মানবজমিনের অলংকার। এই অলংকার যেন আগামী দিনগুলোতেও অম্লান থাকে।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান, শামীম পারভেজ, গোলাম সরোয়ার, আবুল কালাম, এস এম শহিদুল ইসলামসহ জেলার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিরা। বসন্তের এই উৎসবে প্রথম আলো বন্ধুসভা, ল’ স্টুডেন্ট ফোরাম এবং ভিবিডি সাতক্ষীরার সদস্যরাও যোগ দেন বর্ণিল এই আয়োজনে।
আয়োজন শেষে এক আনন্দঘন পরিবেশে কেক ভাগ করে নেওয়া হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ফাল্গুনের এই নতুন দিনের মতোই মানবজমিনের জয়যাত্রা হবে আরও সজীব, সতেজ ও প্রাণবন্ত।
বসন্তের হাওয়ার মতোই ঝরঝরে আলোচনায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, মানবজমিন কেবল একটি পত্রিকা নয়, এটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় এক সাহসী ধারার জনক। মফস্বলের নিভৃত পল্লির আর্তনাদকে জাতীয় মঞ্চে তুলে আনতে পত্রিকাটি যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে, তা অতুলনীয়।
অনুষ্ঠানে পত্রিকাটির দীর্ঘ পথচলার প্রশংসা করে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশের প্রথম ট্যাবলয়েট হিসেবে মানবজমিন সাংবাদিকতায় যে নতুন ধারা তৈরি করেছে, তা আজও অতুলনীয়। বিশেষ করে মফস্বলের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতে এই পত্রিকার ভূমিকা অনন্য। সত্য প্রকাশে আপসহীন থেকে পত্রিকাটি আজ ২৯ বছরে পদার্পণ করল, যেটি সাংবাদিকদের জন্য গর্বের।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলা ভিশন ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধি মো. আসাদুজ্জামান, বৈশাখী টেলিভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি শামীম পারভেজ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার, মুক্ত স্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম, দৈনিক পত্রদূতের বার্তা সম্পাদক এসএম শহীদুল ইসলাম, ৭১ টেলিভিশনের বরুণ ব্যানার্জি, ডিবিসি নিউজের এম. বেলাল হোসাইন, এখন টেলিভিশনের আহসান রাজীব, এনটিভির এসএম জিন্নাহ, এশিয়ান টিভির মশিয়ার রহমান ফিরোজ, মোহনা টিভি’র আব্দুল জলিল, চ্যানেল নাইনের মাহমুদ হাসান, গ্রীন টিভি’র খায়রুল ইসলাম, বাংলা ট্রিবিউন-এর আসাদুজ্জামান সরদার, গ্লোবাল টিভির রাহাত রাজা, ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম খলিল, ডেইলি ক্যাম্পাসের হোসেন আলী, স্বদেশ প্রতিদিনের হাবিবুর রহমান সোহাগ, বাংলাদেশ বুলেটিনের মিলন রুদ্র, দৈনিক হৃদয় বার্তার আলী মুক্তাদা হৃদয়, সাংবাদিক ডা. মহিদার রহমান, তৌফিকুজ্জান লিটু, মেহেদী আলী সুজয়, মোমিনুর রহমান, বাবলু, রায়হান সিদ্দিকী, তহিদুজ্জান, জনি, আতিয়ার রহমান, হাবিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, আমিনুর রহমান, শিমুল হোসেন, মামুন হোসেন, সরদার জিয়া, ওয়েজ কুরুনি, ল’ স্টুডেন্ট ফোরামের অ্যাড. মনোয়ারা পারভীন মিলি, অহিদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, নাহিদ ইসলাম, প্রিয়াংকা হাজরা, নীল, ভিবিডি সাতক্ষীরা ও প্রথম আলো বন্ধু সভার সদস্যরা।
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্থানীয় সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সবশেষে পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

