বন্ধু বান্ধবের সাথে প্রতারনা করে দুই কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা মাদ্রাসা শিক্ষক

Share the post

আবুল হাশেম,ধোবাউড়া(ময়মনসিংহ) : বন্ধু বান্ধব ,উস্তাদ এবং পরিচিত ভাইদের সাথে প্রতারণা করে প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা এক মাদ্রাসা শিক্ষক। ঘটনাটি ঢাকা যাত্রাবাড়ি এলাকায়।তবে পলাতক ঐ শিক্ষকের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার মন্দিরঘোনা গ্রামে। তার নাম ইউনুস আলী।সে আবুল কাশেমের ছেলে।জানা যায়,ছাত্রজীবন থেকে ইউনুস আলী ঢাকায় থাকতেন।পড়াশোনা শেষ করে যাত্রাবাড়ি আল মারকাযুল ইলমী মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।মতিঝিলে তার বন্ধু তৌহিদ এর দোকানে আসা যাওয়া করতেন।দীর্ঘদিন চাকরীর সুবাধে অনেকের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে।মাঝে মাঝে বন্ধু বান্ধবদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন।সময়মত পরিশোধও করতেন।মাদ্রাসার মোহতামিম মিজানুর রহমানের কাছেও তিনি বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন ইউনুস।তার উস্তাদ মুফতি শামসুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সাথেও ছিল সুসম্পর্ক। এভাবে ভাল ব্যবহার দিয়ে বন্ধু বান্ধবদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করে ইউনুস।কারও কাছ থেকে এক লাখ দুই লাখ বা তারও বেশি।এভাবে নিতে নিতে প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে যায়।একজনের আড়ালে অন্যজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে ইউনুস।যাত্রাবাড়ি আল মারকাযুল ইলমী মাদ্রাসার মোহতামিম মিজানুর রহমানের কাছ থেকে নিয়েছে ২৭ লক্ষ টাকা,আল আমিন ইসলাম প্রান্ত এর কাছ থেকে ২৭ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার,ইউনুসের উস্তাদ মুফতি শামসুল ইসলামের কাছ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা,এভাবে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে।গতকিছুদিন ধরে টাকা চাইলে তালবাহানা শুরু করে ইউনুস।অবশেষে সকল পাওনাদারকে গত ৩০ অক্টোবর টাকা দিবে বলে তার মাদ্রাসায় ডাকে।এদিকে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায় সে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে সে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে।সোনার ব্যবসার কথা বলে ঢাকা এবং ধোবাউড়ার বিভিন্ন মানুষজনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছে।সব মিলে যা প্রায় ২ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। অনেকে তাকে টাকা দিয়ে ফকির হয়েছে। যারা টাকা দিয়েছেন বেশিরভাগ আলেম ব্যাক্তিরা। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ি আল-মারকাযুল ইলমী মাদ্রাসার মোহতামিম মিযানুর রহমান থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন। এদিকে প্রায় ২০ জন পাওনাদার শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ইউনুসের এলাকায় আসেন।তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন,সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহেদ তালুকদার,ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমানের কাছে টাকার বিষয়টি তারা অবগত করেন।তখন তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।এদিকে ইউনুসের বাড়িতে গিয়ে তার বাবার সাথে কথা বলেন সকল পাওনাদারগণ। তবে তার বাবা আবুল কাশেম বলেন,টাকার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।এ ব্যাপারে ইউনুসের উস্তাদ মুফতি শামসুল ইসলাম বলেন,আমি ইউনুসকে দুধকলা দিয়ে লালন পালন করেছি সে আমার তের লক্ষ টাকা নিয়ে গেছে।বন্ধু তৌহিদ বলেন,সে যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তাদের স্ট্যাম্পে আমার নাম দিয়ে জামিনদার বানিয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে বসতঘরে আগুন, ক্ষতি ২ লাখ টাকা

Share the post

Share the postমো: রিপন হোসেন,ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে একটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের পাল্লি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা […]

মাগুরার শ্রীপুরে সাচিলাপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

Share the post

Share the postজিল্লুর রহমান সাগর,মাগুরা প্রতিনিধি:মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচিলাপুর বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাজারের একটি বড় ইলেকট্রনিক্স ও স্যানিটারি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সাচিলাপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: […]