মীর কাশেম আজাদ, কক্সবাজার : দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে প্রাণ ফিরেছে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ছনখোলা মালিপাড়া-এক্সমিলিটারি রাস্তা থেকে খুরুশকুল ইউনিয়নের কুলিয়াপাড়া পিচঢালা সড়ক অভিমুখী সড়ক সংস্কারকাজে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক দায়িত্ব গ্রহণের পর তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও কর্মতৎপরতায় দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এ প্রকল্পে নতুন গতি এসেছে।
জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছনখোলা এলাকার প্রায় ১৫ হাজার মানুষের একমাত্র চলাচলের এই সড়কটির সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। রাস্তা ও সেতু নির্মাণকাজ থেমে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ধুলোবালির কারণে ব্যাহত হয় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, পণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসী জানান, প্রকল্পটি ২০২৩ সালের প্রথম দিকে শুরু হলেও কাজের শুরুতেই রাস্তা খুঁড়ে ইটের খোয়া ফেলে রেখে ঠিকাদারের লোকজন কাজ বন্ধ করে চলে যায়। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় তিন বছরেও সড়কের বাকি কাজ শেষ করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ প্রকল্পকে ঘিরে অতীতে বিলম্ব ও দুর্নীতির অভিযোগও ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক যোগদানের পর প্রকল্পটির প্রতি বিশেষ নজর দেন। তার সরাসরি তদারকি ও কঠোর অবস্থানের ফলে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা কাজগুলো পুনরায় শুরু হয়েছে। বর্তমানে সড়ক নির্মাণকাজ পুরোদমে চলমান থাকায় দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, কাজ শুরু হওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরবে। এতে এলাকার শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর কক্সবাজার এলজিইডির সামগ্রিক কার্যক্রম ও প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ধীরগতির অভিযোগ থাকলেও নতুন নেতৃত্বে সেসব সমস্যা দূর করে উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রচেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, ছনখোলা সড়ক নির্মাণ দ্রুত শেষ হলে এলাকার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটবে এবং উন্নয়নের ধারায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।

