নেত্রকোনায় কর্মগুণে প্রশংসিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম

Share the post
সোহেল খান দূর্জয়,নেত্রকোনা প্রতিনিধি: সরকারি সেবা জনগণের দোড়গড়ায় পৌছে দিতে নিরলস ভাবে কাজ করছেন নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম। সেই সাথে অপরাধমুক্ত উন্নত উপজেলা গড়তে ভুমিকা রাখছেন তিনি। করোনাভাইরাস শুরুর দিকে ভয়ে মানুষ যখন ঘরবন্দি ছিল, ঠিক সেই সময়ে জীবনবাজি রেখে করোনা প্রতিরোধে গ্রামীণ জনপদে ছুটে বেড়িয়েছেন উপজেলার এই সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তি। কখনো সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছেন আবার কখনো তিনি রাত বিরাতে মানবিক সহায়তা পৌছে দিয়েছেন অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বাড়ি বাড়ি।
এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম ২০১৮ সালের ৫ই নভেম্বর খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহন করেই অনিয়মের বেড়াজাল ভাঙতে শুদ্ধি অভিযান চালান তিনি। উদ্যোগ নেন দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করার। লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে নিজ প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলেন জনবান্ধব ও বিপদগ্রস্থ মানুষের আশ্রয়স্থল। শক্তহাতে টেনে ধরেন দুর্ণীতিবাজ, ভূমি দস্যু, বালু খেকো ও অবৈধ দখলদারদের লাগাম। তাঁর সৎভাব ও কর্মদক্ষতায় পাল্টে যায় উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সার্বিক চিত্র। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি দপ্তরের কর্মকান্ডে ফিরে আসে গতিশীলতা ও সচ্ছতা। সেই সাথে কমেছে জনভোগান্তি আর বৃদ্ধি পেয়েছে জনসেবার মান।
এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় শোক দিবসসহ প্রতিটি সরকারি কর্মসূচি দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন চৌকস এই উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম।
সর্ব ক্ষেত্রেই রয়েছে এই ইউএনও’র পদচারণা। সকাল-বিকাল ছুটে বেড়ান মাঠ-ঘাট। কথা বলেন সাধারণ মানুষের সাথে। খোঁজ খবর নেন সমাজের অবহেলিত গরীব দু:খী জনগোষ্ঠীর। চলমান মহামারি করোনায় দারিদ্রপীড়িত মানুষকে সাহায্য সহযোগীতা করে উপজেলার সব শ্রেণীপেশার মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। কোথাও কোনো সমস্যা দেখলে দ্রুত ছুটে যান সেখানে। সমস্যা সমাধানে নেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এছাড়া গণমাধ্যম, ফেইসবুক, মুঠোফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুত সমাধানে  ও তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেন ইউএনও এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম।
এদিকে অপরাধ দমন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও করোনা প্রতিরোধে কঠোর হস্তে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে ইউএনও এ এইচ এম আরিফুল ইসলামের উপর বিরাগভাজন হন দুর্নীতি পরায়ণ কিছু অসাধুচক্র। এই চক্রগুলো  অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা হাসিল করতে না পেরে ইউএনও’র বিরুদ্ধাচরণসহ নানাবিধ ষড়যন্ত্র ও গণমাধ্যমে নানা অপপ্রচার করেন। তারা লিপ্ত হন উপজেলা প্রশাসনকে বিতর্কিত ও সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট করার। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের হস্তক্ষেপে ইউএনও’র বিরুদ্ধে করা সব ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায়। কিন্তু এখনো থেমে নেই এই অসাধু চক্রগুলো। তারা ইউএনও’র বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে এখনো।
ইউএনও, এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম ২০০২ সালে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৪ সালে ফুলবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করেন।
পরবর্তীতে ২০০৪-৫ সেশনে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ইউএনও, এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার বাসিন্দা। তিনি ওই পৌরসভার বাসিন্দা মোঃ শহিদুল্লাহ ও আনোয়ারা খাতুনের ছেলে।
এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম ৩১ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৩ সালের ১৫ই জানুয়ারি হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করে দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে ২০১৮ সালের ৫ই নভেম্বর খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সব জায়গায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।
খালিয়াজুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২নং চাকুয়া ইউপির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে যারা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিতে পারছে না তারাই ইউএনও, এ এইচ এম আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অপপ্রচার করেন। তিনি নিঃসন্দেহে একজন ভাল মানুষ। আর তিনি ভালো কাজ করেছেন দেখেই জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও;র পুরস্কার পেয়েছেন, তিনি তার কর্মদক্ষতার জন্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেও পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রনাধীন প্রতিটি দপ্তরের কাজে গতিশীলতা ও সচ্ছতা ফিরে এসেছে। নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন ও জনকল্যাণমুলক কাজ করে তিনি দক্ষ মানবিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলাবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) রাজিব আহমেদসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ইউএনও এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম স্যার খুবই দাযত্বিশীল ও কর্মঠ অফিসার। তার কর্মস্পৃহায় উপজেলার সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকান্ডে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও জবাবদিহীতা। প্রশাসনিক কাঠামো হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী। সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্য রেবেকা মুমিন ও জেলা প্রশাসক কাজি আব্দুর রহমান স্যারের দিকনির্দেশনা মোতাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন ও খালিয়াজুরীকে একটি আধুনিক উন্নত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। সরকারী কর্মকর্তারা জনগনের সেবক। প্রচার ও বাহবা পাওয়ার জন্য নয়, যা কিছু করি আত্মতুষ্টির জন্য।  এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মুলধারার গণমাধ্যমকর্মী এবং সমাজের বিশিষ্টজনরা আমার কাজে সহযোগিতা করছেন। কে কি বলল আর কে কি লিখল সেটা নিয়ে কখনো ভাবিনা। দেশ ও জাতির জন্য কি করতে পারলাম সেটাই বড় কথা। আমি হয়তো একদিন এই উপজেলায় থাকব না, কিন্তু থেকে যাবে আমার কর্ম। যদি ভাল কাজ করে যেতে পারি, তাহলে এই জনপদের মানুষ আমাকে আজীবন মনে রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বন্যার্তদের মাঝে চিকিৎসাপত্র, ওষুধ ও খাবার বিতরণ

Share the post

Share the postবি এম আবুল হাসনাত বাপ্পী, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া, ছনুয়া ইউনিয়নের শেখ মঙ্গলঘাটা, কুদুকখালী ইসলামিয়া তাহফিজুল কুরআন বালক-বালিকা মডেল মাদরাসা ও বাইতুল জামে মসজিদের পাশের আশ্রয়ণ কেন্দ্রসহ আশপাশের এলাকার সহস্রাধিক বন্যার্তকে চিকিৎসাপত্র, ওষুধ ও খাবার বিতরণ করা হয়েছে। গত ২১জুলাই মঙ্গলবার ও ২২জুলাই বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী ঐক্য […]

সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সপ্তাহে ৪ দিন রোস্টার উনুযায়ী ছুটি কাটান তিন চিকিৎসক

Share the post

Share the postশফিকুল বারী,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের তিন চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী প্রতিদিন কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার পরিবর্তে তারা নিজেদের মধ্যে রোস্টার করে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি সময়ে কেউ সিলেটে, আবার কেউ সুনামগঞ্জের বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ […]