আরিফুল ইসলাম,নাটোর প্রতিনিধি:পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নলডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, চিনি, ছোলা, খেজুর, লেবু, শসা ও মাংসসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন শনিবার (দুপুরে) নলডাঙ্গা হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ২ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করেছেন ইউএনও মোঃ আল ইমরান খান। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশিকুর রহমান ও নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নুরে আলম।বাজারে দামের চিত্খোঁ জ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি সয়াবিন তেলের দাম ১০-১৫ টাকা, ছোলা ৮-১০ টাকা এবং চিনি ৫-৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামও ঊর্ধ্বমুখী। অনেক দোকানে মূল্যতালিকা ঝুলানো না থাকায় ক্রেতাদের অভিযোগ আরও বেড়েছে। প্রশাসনের অভিযানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা ও অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়।
নলডাঙ্গা হাটের এক ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ ও অন্যান্য ব্যয়ও বেড়েছে।”ক্রেতা সাইফুল ইসলাম ও জিহাদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রমজান এলেই কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নেয়। প্রতিদিন বাজারে গিয়ে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমাদের আয় তো বাড়ছে না, কিন্তু খরচ বাড়ছেই।”
এক কাঁচামালের আড়ৎদার সামসুল হক জানান, উৎপাদন কম হওয়া, সরবরাহে ঘাটতি এবং পাইকারি বাজারে দামের ওঠানামার কারণে খুচরা বাজারে প্রভাব পড়ছে। তবে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তা অগ্রহণযোগ্য।
নলডাঙ্গা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম আরিফুল ইসলাম বলেন, “রমজানকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা করেন। প্রশাসনের পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন।”সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও নলডাঙ্গা পৌরসভার পৌর প্রশাসক মোঃ আশিকুর রহমান বলেন, “রমজানকে সামনে রেখে কেউ যাতে অযৌক্তিকভাবে দাম বৃদ্ধি করতে না পারে, ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা ও অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ২ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আল ইমরান খান বলেন,সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রমজান মাসজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলবে।রমজানকে সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও ক্রেতাদের দাবি, কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান না হলে দামের লাগাম টেনে ধরা কঠিন হবে।

