জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : তিন ফসলি কৃষি জমির ওপর নির্ভর করেই জীবন-জীবিকা চলে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কৃষকদের। অথচ কোনো ধরনের ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ বা জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই সেই ফসলি জমি কেটে পাকা রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একটি প্রকল্পে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, জামতৈল–তামাই আরএইচডি থেকে আদাচাকি ভায়া কাজিপুরা জামে মসজিদ রোড উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শ্যামপুর মৌজার মধ্য দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এলাকাটিতে সরকারি কোনো খাস জমি বা হালট না থাকলেও প্রায় ৩০ জন কৃষকের ব্যক্তিমালিকানাধীন তিন ফসলি জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শিকদার কনস্ট্রাকশন।
ভুক্তভোগীরা জানান, কোনো প্রকার নোটিশ, অধিগ্রহণ কিংবা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ভেকু মেশিন দিয়ে সরিষা ক্ষেত কেটে মাটি নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ১৩ জন জমির মালিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগের তোয়াক্কা না করেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
এদিকে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ভেকু মেশিন পোড়ানোর ঘটনায় মামলা দিয়ে তাদের ঘরছাড়া করার অভিযোগও করা হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালেও আবার ভেকু মেশিন দিয়ে জমি কাটার কাজ চলছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
ভুক্তভোগী কৃষকের মেয়ে মৌসুমী খাতুন বলেন,
“আমাদের কোনো কাগজ দেখানো হয়নি। জোর করে জমি নেওয়া হচ্ছে। বাধা দিতে গেলে ঠিকাদার আশরাফুল হুমকি দেন। আগের একটি ভেকু পোড়ানোর ঘটনায় আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুরুষ সদস্যদের পলাতক করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানাই।”
ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক আব্দুল খালেক বলেন,
“আমাদের তিন ফসলি জমিতে ভেকু নামিয়ে ফসল কেটে ফেলা হচ্ছে। কোনো ক্ষতিপূরণ পাইনি, আলোচনাও হয়নি। আমরা জমি হারিয়ে রাস্তা চাই না।”
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন,“আমাদের কেউ চাকরি বা ব্যবসা করে না। এই জমিই আমাদের একমাত্র সম্বল। জমি গেলে না খেয়ে মরতে হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেসার্স শিকদার কনস্ট্রাকশন-এর স্বত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম বলেন,
“এলাকাবাসীর চাহিদার ভিত্তিতেই কাজ হচ্ছে। তারা স্কিম দিয়েছে, আমরা বাস্তবায়ন করছি। ব্যক্তিগত জমিতে অনুমতি ছাড়া কাজ করা যাবে না—এমন বিধান সম্পর্কে আমি অবগত নই।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন,“ব্যক্তিগত জমির ওপর জোরপূর্বক রাস্তা করার কোনো বিধান নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি জায়গা না থাকলে এবং এলাকাবাসী আপত্তি করলে সেখানে রাস্তা করা হবে না। সমঝোতার ভিত্তিতেই কাজ করতে হবে।”
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপাশা হোসাইন বলেন,“বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।”ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। কৃষকেরা অবিলম্বে কাজ বন্ধ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

