করোনা শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী

Share the post

দেশে করোনার শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার তিন দশমিক ৮৭ শতাংশ। গতকাল শনাক্তের হার ছিল তিন দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯)। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মারা গেলেন আট হাজার ৪৩৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরো ৬১৯ জন। ফলে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৯ জনে।বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অরিতিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনা বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়েছে, সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২১৯টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১১৮টি, জিন-এক্সপার্ট ২৯টি, র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন ৭২টি। এসব ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৬ হাজার ১৪৪ জনের। আর মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৮৫টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪১ লাখ ৫ হাজার ৩২১টি।

ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮৪১ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন পাঁচ লাখ ৪৬৮ জন।

এতে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার তিন দশমিক ৮৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ২৩ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫৪ শতাংশ।

গত বছরের ৪ এপ্রিলের পর ৯ জানুয়ারি সর্বপ্রথম শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ঘরে নামে। এরপর ১৭ জানুয়ারি ৪ শতাংশের ঘরে আসে। তার পরের দুদিন সামান্য বেড়ে ৫ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়। ২০ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শনাক্তের হার থাকে চার শতাংশে। যদিও এর মাঝে একদিন এই হার ৩ শতাংশে নেমেছিল। এরপর ২৯ জানুয়ারি শনাক্ত হয় ৩.৭৬ শতাংশ। গত ৩১ জানুয়ারি রোববার শনাক্তের হার ৩.০২ শতাংশ। ৩ ও ৫ ফেব্রুয়ারিতে শনাক্তের হার নেমেছে যথাক্রমে ২.৯২ ও ২.৭৯ শতাংশে। ৬ ফেব্রুয়ারি সেই শনাক্তের হার সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৫১ শতাংশে নেমেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি রোববার শনাক্তের হার গত দশ মাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শনাক্তের হার দাঁড়ায় ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারিও একই শনাক্ত হার ছিলো। ২৩ ফেব্রুয়ারিও শনাক্ত দাঁড়ায় ২.৬৫। গত শুক্রবার আবারো শনাক্তের হার তিনের উপরে উঠে। শুক্রবার শনাক্তের বেড়ে ৩.১৩ শতাংশ হয়। তা আরো বেড়ে আজ শনিবার শনাক্তের হার হয়েছে ৩.৩০ শতাংশ। মঙ্গলবার শনাক্তের হার হয়েছে ৩.৩৬ শতাংশ। এর আগে সোমবার শনাক্তের হার বেড়েছিলো ৪.৩১। তবে বৃহস্পতিবার শনাক্তের হার কমেছে ৩.৮৭।

বিজ্ঞপ্তিতে নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৭ জনের মধ্যে পুরুষ পাঁচ এবং নারী দুইজন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে চার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে একজন করে রয়েছেন। সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন।মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, যে ৭ জন মারা গেছেন তাদের বয়স ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে।এই পর্যন্ত পুরুষ ৬ হাজার ৩৭৭ এবং নারী দুই হাজার ৫৮ জন মারা গেছেন।বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গতবছর ৮ মার্চ; তা সোয়া ৫ লাখ পেরিয়ে যায় গত ১৪ জানুয়ারি। এর মধ্যে গতবছরের ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গতবছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছরে ২৩ জানুয়ারি তা আট হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছরের ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে বসতঘরে আগুন, ক্ষতি ২ লাখ টাকা

Share the post

Share the postমো: রিপন হোসেন,ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে একটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের পাল্লি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা […]

মাগুরার শ্রীপুরে সাচিলাপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

Share the post

Share the postজিল্লুর রহমান সাগর,মাগুরা প্রতিনিধি:মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচিলাপুর বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাজারের একটি বড় ইলেকট্রনিক্স ও স্যানিটারি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সাচিলাপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: […]