জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : এক মাসেই ৩০ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করে নজির গড়েছে সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক অফিস। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, রেজিস্ট্রেশন ও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে এই বিপুল অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হয়।
তবে এই ‘রেকর্ড রাজস্ব’ ঘিরে জনমনে উঠছে নানা প্রশ্ন—এটি কি সড়ক শৃঙ্খলা ফেরানোর কার্যকর উদ্যোগ, নাকি রাজস্ব আদায়কেই মুখ্য করে তোলা হয়েছে সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক অফিসের পরিদর্শক মোফাকখারুল ইসলাম জানান, ডিসেম্বর মাসে রেজিস্ট্রেশন ও বৈধ কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক ও সিএনজি চালানোসহ ট্রাফিক আইন অমান্যের অভিযোগে অনলাইনে ৫৭৫টি মামলা করা হয়। এসব মামলার বিপরীতে ইউএস ক্যাশের মাধ্যমে অনলাইনে আদায় হয়েছে ৩০ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা।
ট্রাফিক অফিসের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড।রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলই বড় উৎস। ডিসেম্বরে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ৭২টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। পরে মালিকরা বিআরটিএ অফিসে জরিমানা জমা দিলে সেগুলো ছাড় দেওয়া হয়। এতে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা করে রাজস্ব আদায় হয়েছে। একই কারণে সিরাজগঞ্জ সদর থানাসহ বিভিন্ন থানা হেফাজতে এখনও অন্তত ৯০টি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল আটক রয়েছে।
স্থানীয় যানবাহন শ্রমিক ও চালকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে অভিযান জোরদার হওয়ায় তারা আর্থিক চাপে পড়েছেন। অনেকের দাবি, কাগজপত্র হালনাগাদে সময় ও জটিলতা থাকলেও জরিমানা আদায়ে কোনো ছাড় নেই। এতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরার চেয়ে জরিমানাভিত্তিক রাজস্ব আদায়কেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলছেন তারা।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও বেআইনিভাবে চলাচলকারী যানবাহন আটক ও জরিমানা আদায় ট্রাফিক আইনের অংশ। এই প্রক্রিয়ায় যে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে, তা সরকারের কৃতিত্ব। জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন প্রয়োগ অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেটি হতে হবে সচেতনতা ও সহায়ক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে। কেবল জরিমানাভিত্তিক অভিযানে স্বল্পমেয়াদে রাজস্ব বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে সড়ক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত নাও হতে পারে।
সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক অফিসের রেকর্ড রাজস্ব আদায় একদিকে প্রশাসনিক সফলতা হিসেবে দেখানো হলেও, অন্যদিকে এটি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা, সহজ রেজিস্ট্রেশন ও সেবা নিশ্চিত করা না গেলে এই রেকর্ড কতটা টেকসই হবে—সেই প্রশ্নই এখন।

