আপন ভাইয়ের নাম ব্যবহার করে জালিয়াতি — এনআইডি, পাসপোর্ট, বিদেশ গমন ও জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ
আব্দুল্লাহ আল মামুন,রায়পুর(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৯ নম্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরমোহনা গ্রামের মাঝিবাড়ির বাসিন্দা মৃত ছফি উল্ল্যার ছেলে মো. শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে নিজের পরিচয় গোপন করে আপন ছোট ভাইয়ের নাম ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট তৈরি, বিদেশে গমন এবং ওই পরিচয়ে জমি জবরদখলের চেষ্টাসহ নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত ছফি উল্ল্যার পাঁচ সন্তানের মধ্যে মো. শাহাবুদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রকৃত নাম পরিবর্তন করে ছোট ভাই আব্দুল মান্নানের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কাজে পরিচয় দিয়ে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরি করেন এবং একই পরিচয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের দাবি, পরিবারের বড় ছেলে সৌদি আরবে কর্মরত থাকাকালে ছোট ভাই আব্দুল মান্নানের নামে একটি ভিসা পাঠান। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে আব্দুল মান্নান বিদেশ যেতে না পারলে, সেই সুযোগে সেজো ভাই মো. শাহাবুদ্দিন ছোট ভাইয়ের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ওই ভিসায় সৌদি আরবে চলে যান। পরবর্তীতে দেশে ফিরে তিনি বিয়ে করেন এবং সংসার শুরু করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শাহাবুদ্দিনের নিকাহনামা, জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন নথিতে তার প্রকৃত নাম “মো. শাহাবুদ্দিন” উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে তিনি “আব্দুল মান্নান” পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরি করেছেন। একই সঙ্গে ওই পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রভাব বিস্তার এবং ছোট ভাইয়ের জায়গা-জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, নিজের পরিচয় গোপন রাখতে এবং ছোট ভাইকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে আব্দুল মান্নানকে কারাভোগও করতে হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত পরিচয় যাচাই, জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের বড় ভাই বলেন, “আমার পাঠানো ভিসা ছিল ছোট ভাই আব্দুল মান্নানের নামে। কিন্তু সে অসুস্থ থাকায় বিদেশ যেতে পারেনি। পরে শাহাবুদ্দিন ওই পরিচয় ব্যবহার করে বিদেশে যায়। এখন সে আব্দুল মান্নানের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করছে, যা আমাদের পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ফেলেছে।”
আব্দুল মান্নান বলেন, “আমার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে এনআইডি, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে। আমার জায়গা-জমি দখলের চেষ্টা চলছে এবং আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
অভিযুক্ত মো. শাহাবুদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দুই ভাইয়ের পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

