আড়িয়াল খা নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব শতাধিক পরিবার!

Share the post

মাসুদ রেজা ফিরোজী,মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সিডিখান এলাকার নতুন চরদৌলত খা গ্রামের নদীর পাড়ের নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব হয়ে ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা ময়না বেগম আকুতি করে কথাগুলো বলেন, মোগো এক সময় সবই ছিল, এখন মোরা পথের ভিক্ষারী হয়ে গেছি। মোগো কৃষি জমি ও বসতবাড়ি সহ সব কিছুই এখন নদীর পেটে। এখন শুধু স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছি। এক রাতের ভেতরেই চোখের সামনেই সব নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে। মোগো এখন পরের জায়গায় অস্থায়ী ঘর তৈরী করে থাকতে হচ্ছে। মোগো পাশের বাড়ির যারা রয়েছে তারও নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন গুনছে। যে কোন মুহুর্তে তাদেরও বাড়িঘরও শেষ হয়ে যাবে। মোগো যাওয়ার কোন জায়গা নেই। স্বামীর কবর পর্যন্ত রাক্ষুসে আড়িয়াল কেড়ে নিয়ে গেছে। আমাগো নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে আপনারা বাচান।

এখন তার মত সব কিছু হারিয়ে আহাজারি করেছেন এমন শতশত অসহায় মানুষ। এমনকি তাদের শেষ ঠিকানা বসতবাড়িটি খুইয়ে দিশেহাড়া হয়ে পড়েছেন।

এলাকা ও সরেজমিন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সিডিখান এলাকার নতুনচর দৌতল খা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আড়িয়াল নদীতে গত তিন মাসে একের পর এক আড়িয়াল খা নদীর তান্ডবে ওই গ্রামের কালাম খা, আবদুর রব বেপারী, নুরুল ইসলাম, শাজাহান বেপারী, মাসুদ বেপারী, রিপন বেপারী, শিপন বেপারী, বাবুল বেপারী, সেলিম বেপারী, সাইম বেপারী, হুমায়ন বেপারী, মোতালেব, হোসেন, সিদ্দিক, লিপি, রেনু বেগম, হুগলি বেগম, মহর কাজী, শেফালীসহ প্রায় শতাধিক পরিবারের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি বিলিন হয়ে যায়। এদিকে বর্তমানে ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে নতুন চরদৌলত খা পাকা সড়ক, খানবাড়ি মাদ্রাসা, ৪৪নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নতুন চরদৌলত খা জামে মসজিদ, নতুন চরদৌলত খা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। নতুন করে ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা হলেন দিদার সরদার, ফারুক সরদার, মহাসিন সরদার, নেয়ামুল কাজীর বসত বাড়ি, কুলসুম বেগম, সালেহা খানম, সৌরদ্দী হোসেন, রুবেলসহ অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি।

এ নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে সম্প্রতি নতুনচর দৌলত খা গ্রামবাসীরা আড়িল খা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মানববন্ধন থেকে ক্ষতিগ্রস্থরা আড়িল খা নদী ভাঙ্গন রোধে প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি তোলেন। এবং ভাঙ্গন কবলিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহব্বান জানিয়েছেন।

সিডিখান এলাকার বাসিন্দা নেয়ামুল কাজী জানান, নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনকে অনেকবার বলেছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের জানান, ভাঙ্গন রোধে সকল প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিন বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের শিঘ্রই সহযোগীতা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে বসতঘরে আগুন, ক্ষতি ২ লাখ টাকা

Share the post

Share the postমো: রিপন হোসেন,ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে একটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের পাল্লি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা […]

মাগুরার শ্রীপুরে সাচিলাপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

Share the post

Share the postজিল্লুর রহমান সাগর,মাগুরা প্রতিনিধি:মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচিলাপুর বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাজারের একটি বড় ইলেকট্রনিক্স ও স্যানিটারি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সাচিলাপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: […]