কচুয়া (চাঁদপুর) সংবাদদাতা : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে সৃষ্ট বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চলমান এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার ১২টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪৬০ জন পরীক্ষার্থী মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টির কারণে কচুয়া পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরীক্ষার হলগুলো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাবে শিক্ষার্থীরা মোমবাতি ও চার্জলাইটের সহায়তায় উত্তরপত্র লিখতে থাকে। এতে অনেক পরীক্ষার্থী লেখালেখিতে বিঘ্নের মুখে পড়েন।
উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো হলো—কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, পালাখাল উচ্চ বিদ্যালয়, মাঝিগাছা উচ্চ বিদ্যালয়, সাচার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, গুলবাহার আশেক আলী খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গুলবাহার টেকনিক্যাল স্কুল, রহিমানগর উচ্চ বিদ্যালয় ও আশরাফপুর উচ্চ বিদ্যালয়।এছাড়া দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে কচুয়া নিশ্চিন্তপুর ডিএস কামিল মাদ্রাসা, মনোহর ফাজিল মাদ্রাসা ও বিতারা আলিম মাদ্রাসা।
কয়েকটি কেন্দ্রে, বিশেষ করে সাচার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও গুলবাহার আশেক আলী খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্বল্প সময়ের জন্য জেনারেটর ও আইপিএসের মাধ্যমে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঝড়ো হাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের নজরে আনা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রগুলোতে মোমবাতি ও চার্জলাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের একজন দায়িত্বশীল প্রকৌশলী জানান, “ঝড় ও বৃষ্টির কারণে একাধিক স্থানে লাইনের ওপর গাছ পড়ে ৩৩ কেভি লাইন ট্রিপ করেছে। আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”এদিকে, পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়নে ঘাটতি থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারা এ পরিস্থিতিকে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা দাবি করেন।
দুপুর ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার সবগুলো পরীক্ষা কেন্দ্রই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল।

