কবির হোসেন রাকিব ,কমলনগর (লক্ষ্মীপুর):লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ও অবৈধ ‘লারকি’ (লাকড়ি পোড়ানো) এবং হাওয়া ইটভাটার দাপটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ৪নং ওয়ার্ডে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কৃষি জমি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।কৃষি জমি ও পরিবেশের করুণ দশাসরজমিনে দেখা গেছে, চর মার্টিন ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের উর্বর কৃষি জমিতে আইন অমান্য করে স্থাপন করা হয়েছে এসব অবৈধ ইটভাটা। ভাটার কালো ধোঁয়া আর লাকড়ি পোড়ানো ছাইয়ের কারণে আশপাশের ফসলি জমির ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গাছপালা মরে যাচ্ছে এবং নারিকেল-সুপারিসহ স্থানীয় ফলদ বৃক্ষের উৎপাদন তলানিতে এসে ঠেকেছে। পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই বিষ ছড়ানোর মহোৎসব চলছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মরণফাঁদ’ সড়কইটভাটার ইট ও লাকড়ি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বেপরোয়া গতির অবৈধ ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাক। এসব ভারী যানের চাপে ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। ধুলোবালিতে অন্ধকার হয়ে থাকে চারপাশ। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই সড়কগুলো এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, যার ফলে অভিভাবকরা সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে আতঙ্ক বোধ করছেন
প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নসরকারিভাবে ‘লারকি’ বা লাকড়ি পোড়ানো ভাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও কমলনগরের এই এলাকায় তা চলছে বুক ফুলিয়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রশাসনের এই নীরবতা অবৈধ ভাটা মালিকদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
ভুক্তভোগীদের আকুতিচর মার্টিন ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা জানান: “আমরা এখানে শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। কৃষি জমি শেষ হয়ে যাচ্ছে, রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—এই অবৈধ মরণফাঁদগুলো দ্রুত বন্ধ করা হোক এবং আমাদের চলাচলের রাস্তাগুলো সংস্কার করা হোক।”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণপরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবিলম্বে এই অবৈধ ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কমলনগরের সর্বস্তরের মানুষ। অন্যথায় আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।

