আশুলিয়ার কলতাসূতীতে নোংরা পানির স্রোত: ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস, ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ।
মো: শামিম বেপারী,সাভার আশুলিয়া প্রতিনিধি : সাভার আশুলিয়া থানা ১নং শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসূতী মুসলিম ট্যাক এলাকায় কয়েকটি প্রভাবশালী বাড়িওয়ালার স্বেচ্ছাচারিতায় কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নিজেদের বাড়ির ব্যবহার্য ও বর্জ্য পানি সরাসরি সড়কে ফেলায় জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। রাস্তায় দিনের পর দিন জমে থাকা নোংরা পানি, কাদা ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এখন ক্ষোভে ফুঁসছে।
রাস্তাই যেন ড্রেন
আজ মঙ্গলবার( ১৭ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে অবিরামভাবে বাড়ির পানি গড়িয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও ছোট নর্দমার মতো স্রোত তৈরি হয়েছে। পথচারীরা বাধ্য হয়ে নোংরা পানির ভেতর দিয়েই চলাচল করছেন।
ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কাদা ও দুর্গন্ধে দোকানে ক্রেতা আসতে চাইছেন না। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। চাকরিজীবীরা প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার আগে পোশাক নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় থাকেন। স্কুল কলেজর শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের চিত্র।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ, একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, নিজেদের বাড়ির পানির সঠিক নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে রাস্তায় ফেলে দেওয়া স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন। কয়েকজনের খামখেয়ালিতে পুরো এলাকা জিম্মি হয়ে গেছে।এক নারী বাসিন্দা জানান, শিশুরা রাস্তায় বের হতে পারে না। পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নোংরা পানির কারণে রোগবালাই ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয় সমাজসেবক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, কয়েকটি বাড়িওয়ালার কারণে আমাদের চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। বিষয়টি আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে সরেজমিনে দেখিয়েছি।
এদিকে শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ছাত্রদলের সভাপতি ওসমান গনি সাগর যুব সমাজকে নিয়ে পানি জমে থাকা স্থানে ট্রাকভর্তি বালু ফেলে সাময়িকভাবে জনদুর্ভোগ লাঘবের উদ্যোগ নেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে অভিযুক্ত বাড়িওয়ালারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে দাবি তাদের।
শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মান্নান হোসেন সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালাদের মৌখিক সতর্ক করেন। জানা গেছে, প্রায় ৪০টি বাড়ি থেকে এসব পানি নির্গত হচ্ছে। তিনি বাড়িওয়ালা প্রতিনিধিদের সাত দিনের সময় দিয়ে স্থায়ী সমাধানের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ জনগণের দুর্ভোগের কারণ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করা হবে।
কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি,দ্রুত স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে মানববন্ধনসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।

