হিন্দুসম্প্রদায়ে উপর হামলা-ভাঙচুর করেচছচে এনসিপি মানববন্ধন ওথানায় অভিযোগ
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক ,হাতিয়া, নোয়াখালী: হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় হিন্দুসম্প্রদায়সহ একাধিক পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (১৬ফেব্রুয়ারি) রাতে হাতিয়া থানা-এ দুটি পৃথক অভিযোগ দাখিল করা হয়। এর আগে দুপুরে হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রিয়াজ মার্কেট এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী অংশ নিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় তাদের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভোটের দিন থেকে ফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত সোনাদিয়া বাংলাবাজার ও রিয়াজ মার্কেট এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমর্থকরা ভয়ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফল ঘোষণার পর অন্তত ১০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
ঘরের ভেতরে ঢুকে গালিগালাজ, লুটপাট এবং গবাদিপশুর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। এমনকি ভোটের তিন দিন পরও ভুক্তভোগীদের যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই মারধর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ভুক্তভোগী দীপক চন্দ্র দাস বলেন, “ভোটের পরদিন রাতে বাজারে এনসিপির লোকজন আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর করে। তারা বলে, আগে আওয়ামী লীগ করছ, এখন ধানের শীষে ভোট দিয়েছ কেন।” দুর্জয় ধন দাসের স্ত্রী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের গবাদিপশু পিটিয়ে আহত করে এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়।
কাকন চন্দ্র দাস জানান, বাজারে তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে পকেট থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।একাধিক নারী ভুক্তভোগী বলেন, বিজয় মিছিলের সময় বাড়িতে ঢুকে পুরুষদের টেনে নেওয়ার চেষ্টা, মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। অনেকে প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব ঘটনায় এনায়েত হোসেন, মহিউদ্দিন, হান্নান ডুবাই, ওছমান ও জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। তাদের সহযোগী হিসেবে নাইম, কাওছার, জুয়েল, শাকিব, শুভ, হাসান, সম্পদ, নিশান ও জিটনের নামও উল্লেখ করেন তারা।
এদিকে বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গৌর হরি মাঝি বাড়ির মৃদুল চন্দ্র দাসের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রের পাশে বাড়ি হওয়ায় নৌবাহিনীর সদস্যদের কাছে অভিযোগ জানালেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মৃদুল চন্দ্র দাস ও তার স্ত্রী বলেন, “ভোটের দিন একদল অস্ত্রধারী লোক হঠাৎ ঘরের সামনে এসে বলে, তোদের ঘরে ধানের শীষের লোক আছে। এরপর ঘরের চারদিকে রামদা দিয়ে কোপাতে থাকে। লাথি দিয়ে দরজা ভেঙে ফেলে। আমাদের বিয়ের উপযুক্ত তিনটি মেয়ে থাকায় তাদের রেখে আমরা ঘর ছেড়ে যেতে পারিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী পল্লী চিকিৎসক খনেশ দাস বলেন, ভোটকেন্দ্র চারু বালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তাদের ঘরের পাশে হওয়ায় হামলাকারীরা দ্রুত বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তিনি বলেন, “ওরা আমাকে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিয়েছিল। প্রশাসন চাইলে কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারবে। আমি এখনো তাদের ভয়ে হাটেবাজারে যেতে পারছি না।”
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার কিছু স্থানীয়ভাবে সামাজিক সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা হচ্ছে।

