জলিলুর রহমান জনি ,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশের সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ এবং আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তা কার্যকর করার দাবিতে সিরাজগঞ্জে তিন দিনব্যাপী অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখা।
গত ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস ও দপ্তরের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও বিক্ষোভ পালন করছেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব মোঃ রেজাউল রহমান টুটু, উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি এবং আহ্বায়ক, ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন কমিটি, সিরাজগঞ্জ। তিনি বলেন,“বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম জীবনযাপন করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই অবিলম্বে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তা কার্যকর করা সময়ের দাবি।”
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জনাব আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি না থাকায় কর্মচারীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
এছাড়াও বক্তব্য দেন জেলা সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন,“সরকারি কর্মচারীরা রাষ্ট্রের সেবা প্রদান করে থাকেন। অথচ তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কর্মচারীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। দাবি মানা না হলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি রেখে আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবে ঐক্য পরিষদ।”
কালেক্টরেট কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন বলেন, বর্তমান বেতন কাঠামোতে কর্মচারীদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চলা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তিনি অবিলম্বে গেজেট প্রকাশ করে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ডাক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল ইসলাম তালুকদার বলেন,“আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরছি। কিন্তু দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
কর্মসূচিতে আরও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে একাত্মতা প্রকাশ করেন। নেতারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
স্থানীয় সরকারি অফিস চত্বরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে ছিল।

