এস.এম.জয়, বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়া সদর থানা পুলিশের অভিযানে অবশেষে গ্রেফতার হলেন ধর্ষণ মামলার এজাহার নামীয় আসামী মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন (২৭)। আবাসিক হোটেলের দালাল হিসেবে পরিচিত ইলিয়াস হোসেনকে আজ শুক্রবার, ০৭/১১/২০২৫ তারিখে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা সপ্তপদী মার্কেটের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের এফআইআর (সং-১৯, তারিখ-৫ নভেম্বর, ২০২৫) এবং বাদীনির এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ স্বামী-সন্তানসহ সংসার করা অবস্থায় ফোন আলাপের মাধ্যমে আসামী মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে পরিচিত হন। ইলিয়াস প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বাদীনিকে তার স্বামীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করার জন্য প্ররোচিত করে। ইলিয়াসের প্ররোচনা ও ফুসলাতিতে সরল বিশ্বাসী বাদীনি স্বামীকে তালাক দেন এবং তার কাছে থাকা ৬-৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১০-১২ লাখ টাকা নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান নেন। এরপর আসামী ইলিয়াস ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে বাদীনিকে বগুড়ায় নিয়ে আসে এবং শহরের নিশিন্দারা উত্তরপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় রাখে।
এজাহারে বাদীনি আরও উল্লেখ করেন, আসামী ইলিয়াস একজন আবাসিক হোটেলের দালাল ব্যবসায়ী। সে বাদীনিকে উক্ত ভাড়া বাসায় রেখে নিজে হোটেলে অবস্থান করত এবং মাঝে মধ্যে এসে জোরপূর্বক মেলামেশা করত। বিয়ের কথা বললেই সে টালবাহানা করতে থাকে এবং ধীরে ধীরে বাদীনির সমস্ত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়ে তাকে নিঃস্ব করে ফেলে। সর্বস্ব হারানোর পর বাদীনি তার অবুঝ দুই সন্তানকে তাদের পিতা-মাতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এমতাবস্থায়, গত ইংরেজী ২৬/১০/২০২৫ তারিখে আসামী ইলিয়াস ভাড়া বাসায় এসে বাদীনিকে পুনরায় জোরপূর্বক ধর্ষণের উদ্যোগ নিলে বাদীনি বাধা দেন, কিন্তু আসামী তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাদীনিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর আসামী ইলিয়াস বাদীনিকে কূ-প্রস্তাব দিয়ে হোটেলে আসা খরিদ্দারদের সঙ্গে মেলামেশা করতে বলে। এতে বাদীনি হতভম্ব হয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে ইলিয়াস তাকে চরমভাবে মারপিট করে। বাদীনির কান্নাকাটি ও চিৎকারে বাড়ীর মালিকের স্ত্রী এবং আশেপাশের লোকজন জড়ো হলে আসামী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই জঘন্য ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদীনি বগুড়া সদর থানায় ৯(১) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ ধারায় মামলা (জি আর নং-৮৮৬, তারিখ-৫ নভেম্বর, ২০২৫) দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে এই ঘৃণ্য অপরাধে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামীকে (শুক্রবার) বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

