সোহেল খান দুর্জয়, নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় গত ২৫ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান নেত্রকোনা জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নেত্রকোনার মানবিক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেন। তিনি ২৭ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন সম্মানিত সদস্য।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করেছেন। স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত সেবা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে তিনি দিন-রাত কাজ করছেন। জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান যার কর্মদক্ষতা, সুশাসন, সুব্যবস্থা, ধর্মের প্রতি সম্মান,ছোট বড় গরিব-দুখী সহ প্রত্যেক স্তরের মানুষের প্রতি সম্মান আর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে গড়েছেন মধুর এক সম্পর্ক।
এছাড়াও সেবা গ্রহীতাগণ জেলা প্রশাসনের কোন সেবা হতে বঞ্চিত হলেও অভিযোগ জানাতে পারেন জেলা প্রশাসকের মোবাইল নম্বরে। বর্তমান জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জেলা প্রশাসক হিসাবে যোগদান করার পর তাঁর মানবিক মূল্যবোধ এবং কর্মদক্ষতায় নেত্রকোনা জেলাবাসি মুগ্ধ। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জেলায় মাত্র ৪৭ দিনে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন।
এছাড়াও জেলা প্রশাসকের সাথে কোন বিশেষ প্রয়োজনে দেখা করতে চেয়ে সুযোগ পাওয়া যায়নি এমন ঘটনা বিরল। তার অফিস কক্ষে গেলে দেখা যায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তার সাথে দেখা করতে আসছেন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। কেউ এসেছেন জমি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে, কেউ এসেছেন চিকিৎসার জন্য সাহায্যের প্রত্যাশায়, কেউ এসেছেন মসজিদ-মন্দিরের সংস্কারের জন্য আর্থিক সহায়তার আশায়, কেউবা এসেছেন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবার আশায়।
সরিজমিনে দেখা যায়, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নেত্রকোনা শহরের আনন্দ বাজার এলাকায় একটি পরিবার অসহায়ত্ব কাটিয়ে উঠতে না পেরে তাদের সন্তান বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন, এই খবরটি জেলা প্রশাসকের কানে আসা মাত্রই তিনি এই পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়ান এবং এই পরিবারটিকে চলার মত একটি রিক্সা এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন এবং শিশু সন্তান গুলো বিক্রি থেকে রক্ষা পায়।এছাড়াও তিনি ধলাই নদীর কচুরিপানা পরিস্কার করতে জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের নিয়ে নিজেই নেমে পড়েন নদীতে এরকম অনেক মানবিক নজির স্হাপন করেছেন তিনি এই অল্প সময়ে।
নেত্রকোনার সচেতন মহল বলছেন, জেলার মানুষের জন্য অনেক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে তার দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা জেলার পর্যটন খাতকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তাঁর নতুন নতুন চিন্তা ও দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা জেলা প্রশাসনকে দাড় করিয়েছে এক নতুন মাত্রায়।
জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, আমরা জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। স্বচ্ছ ও দুর্ণীতি মুক্ত জনপ্রশাসনকে জনকল্যাণে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

