হোমিও চিকিৎসকদের ‘ডা.পদবি ব্যবহারে মন্ত্রণালয় কর্তৃক আইন বহির্ভূত চিঠি প্রত্যাহারের দাবি
আহসান হাবীব সুমন ,কচুয়া, চাঁদপুর প্রতিনিধি :হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের নামের আগে ‘ডাক্তার (ডা.)’ পদবি ব্যবহারে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জারি করা নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে হোমিওপ্যাথিক স্বার্থ সংরক্ষণ জাতীয় কমিটি।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।
কমিটির আহ্বায়ক ডা. মো. আরিফুর রহমান মোল্লা বলেন, আইনের ধারা ২(১৩) অনুযায়ী হোমিও চিকিৎসকদের নামের আগে ‘ডা.’ পদবি ব্যবহারের বৈধ অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া একই আইনের ৩ নং ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক, হোমিওপ্যাথি আইনের বিধান প্রাধান্য পাবে।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে যে যুক্তি দেখানো হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর। কারণ ওই রায় বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে বহু দেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা আইনত ‘ডা.’ পদবি ব্যবহার করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে—১০ আগস্টের নির্দেশনা প্রত্যাহার এবং হোমিও চিকিৎসকদের নামের আগে ‘ডা.’ লেখা নিয়ে হয়রানি বন্ধ করতে হবে; হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩ দ্রুত কার্যকর ও শিক্ষা কাউন্সিল গঠন করতে হবে; বেসরকারি হোমিও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরতদের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী শতভাগ বেতন-ভাতা দিতে হবে; বিদেশ থেকে মানসম্মত ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতা দূরী করতে হবে; জাতীয় পর্যায়ে গবেষণাগার স্থাপন ও সরকারি কলেজে গবেষণা কেন্দ্রের জনবল বাড়াতে হবে এবং প্রকল্পভুক্ত হোমিও চিকিৎসকদের পদ রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে হবে।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির আহবায়ক ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা।উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব ডা. শফিকুল আলম নাদিম,মূখ্য সমন্বয়ক ডা এ কে এম জাকির হোসেন, সমন্বয়ক ডা মুজিবুল্লাহ মুজিব,সমন্বয়ক ডা শাহাজালাল আহমেদ, ডা নজরুল ইসলাম,অধ্যক্ষ ডা নাছির উদ্দিন শেখ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডা খলিলুর রহমান,অধ্যক্ষ ডা আশরাফুর রহমান ডা মশিউজ্জামান পান্নু,ডা কাশেমুর রহমান প্রমুখ।
কমিটির মূখ্য সমন্বয়ক ডা এ কে এম জাকির হোসেন বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা দেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকরা। অথচ বারবার এ চিকিৎসা পদ্ধতিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের উচিত আইন মেনে আমাদের অধিকার নিশ্চিত করা।

