নওগাঁ প্রতিনিধি:নওগাঁর পত্নীতলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) তাদের ৫৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করেছে। দীর্ঘ এই পথচলায় সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যাটালিয়নটির আত্মত্যাগ ও অবদান স্মরণ করা হয়।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) ১৯৬৭ সালের ০৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকায় তৎকালীন ইপিআর-এর ১৪তম উইং হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যবধি এই ব্যাটালিয়ন দেশমাতৃকার সীমান্ত রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকার কর্তৃক অর্পিত সকল কার্যক্রম সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পাদন করে আসছে।
ব্যাটালিয়নটির ইতিহাস গৌরব ও আত্মত্যাগে ভরপুর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই ইউনিটের ৩৫ জন বীর সেনাসদস্য শাহাদাৎ বরণ করেন। এছাড়া ১৯৮৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের মারিশ্যা এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন শান্তিবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে আরও দুই জন সেনাসদস্য শহীদ হন। সব মিলিয়ে ৩৭ জন শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে উঠেছে পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের বীরত্বগাথা।
৫৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে গত ০৮ জানুয়ারি মিলাদ মাহফিল ও দোয়া, কোয়ার্টার গার্ডে আনুষ্ঠানিক পতাকা উত্তোলন এবং অধিনায়কের বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ব্যাটালিয়নের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানের। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন, সেক্টর কমান্ডার, রাজশাহী সেক্টর সদর দপ্তর। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক, রাজশাহী সেক্টরের অধীনস্থ বিভিন্ন ইউনিটের অধিনায়কবৃন্দ, নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার, সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ প্রশাসন ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
এ সময় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ এবং পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অফিসারসহ সকল স্তরের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
৫৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাপনী কর্মসূচি হিসেবে বিকেলে একটি প্রীতি ভলিবল খেলার আয়োজন করা হয়।

