৩৬ জেলায় সংক্রমণ বাড়ছে

Share the post

দেশের অর্ধেকের বেশি জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ১৬ জেলায় সংক্রমণ তুলনামূলক দ্রুত বাড়ছে। কিছু জেলায় সংক্রমণ ছাড়িয়েছে ৫০ শতাংশের বেশি, বাড়ছে মৃত্যুও। প্রত্যন্ত এসব এলাকায় চিকিৎসার সক্ষমতা কম থাকায় করোনা নিয়ন্ত্রণে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার তাগিদ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিম্ন আয়ের মানুষকে ঘরে রাখতে তাদের কাছে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের পরামর্শও দিয়েছেন।

সীমান্তবর্তী জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটে করোনা সংক্রমণ প্রতিদিনই বাড়ছে। নড়াইলে করোনা সংক্রমণের হার ৫৮ দশমিক ছয়-দুই শতাংশ। সাতক্ষীরায় এ হার ৫২ দশমিক ছয়-শূন্য শতাংশ। এছাড়া বাগেরহাট, খুলনা, রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চুয়াডাঙায় সংক্রমণ বাড়ছে দ্রুত। এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এর মধ্যে সাতক্ষীরায় গত শনিবার থেকে লকডাউন চলছে, কিন্তু এখনো পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। রাজশাহী সিটিতে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে সর্বাত্মক লকডাউন।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাপথে যাওয়া-আসা বন্ধ ও কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকরের পরামর্শ দিয়েছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে পারলে নতুন সংক্রমণ কমবে বলে মনে করেন তিনি।

সীমান্তবর্তী জেলা ছাড়াও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে করোনা পরীক্ষার সুুবিধা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে।

ঈদের পর থেকে সংক্রমণ ও রোগী বৃদ্ধির হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। গত পাঁচদিন ধরে সংক্রমণ রেখায় ছোট উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৮টি জেলায় আগের সপ্তাহের তুলনায় রোগী বৃদ্ধির হার শূন্য শতাংশের নিচে, আর ১০টি জেলায় এই হার শূন্য দশমিক ১ থেকে ২৪ শতাংশের মধ্যে। এর বাইরে বাকি ৩৬ জেলায় রোগী বাড়ছে। এসব জেলায় এক সপ্তাহে রোগী বৃদ্ধির হার ২৫ থেকে ১০০ শতাংশের বেশি।

চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এ সময়ে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেশি বেড়েছে। সীমান্তের কিছু জেলায় পুরোপুরি বা আংশিক লকডাউন দেয়া হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৫টি জেলায় গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে রোগী বৃদ্ধির হার ১০০ ভাগ বা তার বেশি ছিল। এগুলোর আটটিই ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা। এর বাইরে আটটি জেলায় রোগী বৃদ্ধির হার ৭৫ থেকে ৯৯ শতাংশের মধ্যে। এ ছাড়া মাগুরা, নড়াইল, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পিরোজপুর ও নোয়াখালীতেও এই সময় রোগী বৃদ্ধির হার শতভাগ কিংবা তার চেয়ে বেশি ছিল।

শতভাগ বা তার চেয়ে বেশি হারে রোগী বেড়েছে এমন সীমান্তবর্তী জেলাগুলো হলো পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, রাজশাহী, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও খাগড়াছড়ি। আর রোগী বৃদ্ধির হার ৭৫ থেকে ৯৯ শতাংশ ছিল সীমান্তবর্তী জেলা যশোর, ঝিনাইদহ, নওগাঁ, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, ফেনী, শেরপুর ও কুষ্টিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ঘোড়াঘাটে করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শতাধিক বসতবাড়ি, আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

Share the post

Share the postশাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক বসতবাড়ি। নদীর তীব্র ভাঙনে যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষের। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অসহায় পরিবারগুলো। উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা […]

ফরিদপুরে বিএসটিআইর মোবাইল কোর্ট: ৩ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Share the post

Share the postমো: মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ মোবাইল কোর্টে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় মোট তিনটি মামলায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অননুমোদিত খাদ্য রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ফরিদপুর […]