মানবিক ভুল বলে ক্ষমা চাইলেন সাকিব

Share the post

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট ম্যাচে নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন মোহামেডানের স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টিতে মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচে মেজাজ হারিয়ে লাথি দিয়ে স্টাম্প ভাঙেন সাকিব। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মুশফিকুর রহিমের বিপক্ষে এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার ইমরান পারভেজ। এতেই রেগে লাথি মেরে স্টাম্প ভাঙেন সাকিব।

পরের ওভারেই শুভাগত হোমের বোলিংয়ের সময় বৃষ্টি নামলে আম্পায়ার খেলা বন্ধ করার ঘোষণা দিলে সাকিব নিজের হাতে স্টাম্প উপড়ে ফেলেন। বেশ কিছুক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় সাকিব ও আম্পায়ারের মধ্যে। এরপর ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদের সঙ্গেও তর্কে জড়ান সাকিব।এর পর সামাজিক ফেসবুক পেজে ক্ষমা চান সাকিব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাকিব লিখেছেন, ‘প্রিয় ভক্ত ও অনুসারীরা, মেজাজ হারিয়ে ম্যাচের মুহূর্ত নষ্ট করায় আমি খুবই দুঃখিত। বিশেষ করে যারা বাসা থেকে খেলা দেখছেন। আমার মতো অভিজ্ঞ এক ক্রিকেটারের এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো ঠিক না, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাঝে মাঝে অবিশ্বাস্য কিছু ঘটে যায়। আমি আমার দল, ম্যানেজমেন্ট, টুর্নামেন্টের কর্মকর্তা ও আয়োজক কমিটির কাছে মানবিক এই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইছি। আশা করি, ভবিষ্যতে এমন কিছু আর কখনো করব না। ধন্যবাদ, সবাইকে ভালোবাসি।’

এর আগে আবাহনীর ড্রেসিংরুমে এসে কোচ খালেদ মাহমুদের সঙ্গে কথা বলেছেন সাকিব। নিজের আচরণের জন্য মাহমুদের কাছেও ক্ষমা চান।শুক্রবার দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং।

প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে ব্যাট হাতে সময়টা ভালো যাচ্ছে না সাকিবের। তবে আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে ইংগিত দেন ছন্দে ফেরার। ব্যাট হাতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ করেন মোহামেডান অধিনায়ক সাকিব। ১৪৬ রানের টার্গেটে শুরুতে কিছুটা এলোমেলো হয় আকাশী-নীলরা। ৯ রানে তিন টপ অর্ডারের বিদায়ের পর হাল ধরেন নাজমুল শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। ব্যক্তিগত ১২ রানে মুশফিকের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন সাকিব। আম্পায়ার তাতে সাড়া না দেয়াতে মেজাজ হারান এই অলরাউন্ডার। এরপর বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা।

ঘটনাটা আবাহনী ইনিংসের পঞ্চম ওভারে। মুশফিকুর রহিমের বিপক্ষে নিজের বোলিংয়ে এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। সঙ্গে সঙ্গেই লাথি মেরে স্টাম্প ভাঙেন সাকিব। পরের ওভারেই শুভাগত হোমের বোলিংয়ের সময় বৃষ্টি নামলে আম্পায়ার খেলা বন্ধ করার ঘোষণা দিলে সাকিব আবার নিজের হাতে স্টাম্প উপড়ে ফেলেন।

তবে ঘটনাটি স্টাম্প ভাঙা আর আম্পায়ারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়েই শেষ হয়নি। এর দ্বিতীয় অংশে মঞ্চে আবির্ভূত হন আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ। আবাহনীর ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে তুমুল বৃষ্টি নামলে আম্পায়ার মাহফুজুর রহমান খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন। তিনি যখন মাঠকর্মীদের কাভার আনার ইশারা দিচ্ছেন, তখন সাকিব আম্পায়ারের দিকে এগিয়ে গিয়ে তিনটি স্টাম্পই তুলে উইকেটের ওপর ছুড়ে মারেন। তিনি এ সময় আম্পায়ারকে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু একটা বলছিলেন।

এরপর দৃশ্যপটে প্রবেশ করেন খালেদ মাহমুদ। খেলোয়াড়েরা যখন মাঠ ত্যাগ করছিলেন, তখনো নিজেকে সামলাতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল সাকিবের। তিনি এ সময় আবাহনীর ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে কিছু বললে খেপে গিয়ে তেড়ে আসেন কোচ খালেদ মাহমুদ। এগিয়ে যান সাকিবও। মোহামেডানের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার তখন জাপটে ধরে থামান সাকিবকে। খালেদ মাহমুদকেও থামান মোহামেডানের শামসুর রহমান।

পরে অবশ্য পুরো ব্যাপার মিটে যায়। সাকিব আবাহনীর ড্রেসিংরুমে গিয়ে ক্ষমা চান মাহমুদের কাছে। মাহমুদও তাকে জড়িয়ে ধরে ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ঘোড়াঘাটে করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শতাধিক বসতবাড়ি, আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

Share the post

Share the postশাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক বসতবাড়ি। নদীর তীব্র ভাঙনে যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষের। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অসহায় পরিবারগুলো। উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা […]

ফরিদপুরে বিএসটিআইর মোবাইল কোর্ট: ৩ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Share the post

Share the postমো: মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ মোবাইল কোর্টে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় মোট তিনটি মামলায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অননুমোদিত খাদ্য রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ফরিদপুর […]