ফাহাদুল ইসলাম, সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ জমির খারিজ সংক্রান্ত বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ভূমি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান।
সোমবার ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।পরে দুনপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিপক্ষ শাহজামালের নেতৃত্বে হামলায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং নতুন করে শাহ জামালের নেতৃত্বে পুনরায় হামলার আশঙ্কা করছেন আহতদের পরিবাররা। স্থানীয়রা বলেন, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে না যে কোন মুহূর্তে আবার উভয় পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোগরাপাড়া এলাকার মীর কবিরের সঙ্গে শাহজামাল গংদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে সোনারগাঁ ভূমি অফিসে চলমান রয়েছে। সোমবার বিকেলে সোনারগাঁর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিরোধপূর্ণ জমিতে সরেজমিন তদন্তে যান।
তদন্তকালে শাহজামালের স্ত্রী ও ভাইয়ের বৌ এসিল্যান্ডের সামনে কবির ও তার লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। পরিস্থিতি বিব্রতকর হওয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তার চলে যাওয়ার পর শাহজামালের নেতৃত্বে আবুল বাশার, মাসুদ, সিফাত, রাহাত, সুজন, ইমরানসহ আরও ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কবিরের লোকজনের ওপর হামলা চালায়।
এসময় রতন, সাগর ও রানাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ২০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বিরোধপূর্ণ জমির বর্তমান মালিক মীর কবির বলেন, ক্রয় সূত্রে আমি এই জমির মালিক খারিজ করার তদন্তে সোনারগাঁ ভুমি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান জমিতে যাওয়ার পরেই শাহজামালের স্ত্রী ও তার ভাইয়ের বউ সহ তাদের লোকজন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও আক্রমণাত্মক ভাব হলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তাদের লোকজন জড়ো হলে আমার ছোট ভাইদের উপর অন্যায় ভাবে আক্রমণ চালিয়ে তিনজনকে আহত করে এ বিষয়ে আমি সোনারগাঁ থানায় মামলার কাজ চলমান রেখেছি।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানার ওসি মুহিবুল্লার নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

