জলিলুর রহমান জনি,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ জেলার ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনই জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জন প্রার্থী পেয়েছেন চার অঙ্কেরও কম ভোট, যা জেলার নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রার্থীদের জনসমর্থনের বড় ধরনের বৈষম্যকে তুলে ধরেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জেলার ছয়টি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা যায়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন–এর ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের ১২.৫ শতাংশ না পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদরের একাংশ):৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন জামানত হারান। এ আসনে মোট ভোট পড়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ২১৪। ধানের শীষ প্রতীকে সেলিম রেজা ১ লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
সিরাজগঞ্জ-২: ৭ জনের মধ্যে ৫ জন জামানত হারান। মোট ভোট পড়ে ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৬৬। বিএনপি প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
সিরাজগঞ্জ-৩: ৪ জনের মধ্যে ২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। মোট ভোট পড়ে ৩ লাখ ৩৭টি। বিএনপি প্রার্থী ভিপি আয়নুল হক ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
সিরাজগঞ্জ-৪: ৫ জনের মধ্যে ৩ জন জামানত হারান। মোট ভোট পড়ে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫টি। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
সিরাজগঞ্জ-৫: ৬ জনের মধ্যে ৪ জন জামানত হারান। মোট ভোট পড়ে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩টি। ধানের শীষ প্রতীকে আমিরুল ইসলাম খান আলীম ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
সিরাজগঞ্জ-৬: ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই জামানত হারান—সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোট পড়ে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৪। বিএনপি প্রার্থী ডক্টর এম এ মুহিত ১ লাখ ৭০ হাজার ১২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, পরিপত্র অনুযায়ী প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের ১২.৫ শতাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসেবে জেলার বিজয়ী ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া প্রায় সব প্রার্থীর মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া থেকে বোঝা যায়—ভোটাররা মূলত প্রধান দুই ধারার প্রার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে জনসমর্থনের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

