সাভারে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার
মাহমুদুল ইসলাম সাগর সাভার উপজেলা প্রতিনিধি:ঢাকার সাভারের জোড়পুল এলাকায় একটি ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল সন্দেহজনক এক কার্যক্রম। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ মারুফ হোসেন (৩১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। তবে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কি একাই, নাকি এর পেছনে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত মারুফ হোসেন সাভার নামা গেন্ডা এলাকার মৃত মেজবা উদ্দিন মন্টুর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় সন্দেহজনক চলাফেরা করছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
জোড়পুল এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন মারুফ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে ওই বাসায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। রাতে মোটরসাইকেলে আসা-যাওয়া এবং ফিসফাস বৈঠক নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
একজন প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ওই বাসায় সবসময় দরজা-জানালা বন্ধ থাকত। রাতে কয়েকজন অচেনা লোক আসত। আমরা সন্দেহ করতাম কিছু একটা হচ্ছে।”
সাভার মডেল থানা পুলিশ জানায়, সম্প্রতি মারুফের কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে আসে। তথ্য যাচাই করে বুধবার রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তাকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “অভিযান ছিল পরিকল্পিত। আমরা আগে থেকেই নজরদারিতে রেখেছিলাম। গ্রেফতারের সময় সে বাসায় অবস্থান করছিল।”
উদ্ধার হওয়া অ*স্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র রয়েছে কিনা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছে। মারুফ সেই ঘটনাগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। মারুফ তাদের কোনো একটির সঙ্গে জড়িত কিনা, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা ও সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

