মনোহরদীতে চিকিৎসাসেবা দিলেন হোমিও চিকিৎসক ডা. এম এইচ কবির
মো হিমেল মিয়া,মনোহরদী নরসিংদী: নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের সাগরদী বাজারে মা হোমিও হলে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন বীর আহম্মদপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ও সুনামধন্য হোমিও চিকিৎসক ডা. এম এইচ কবির। এলাকার শতাধিক মানুষ তাঁর কাছ থেকে স্বাস্থ্যপরামর্শ ও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ে আলোচনা, প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সাধারণ চিকিৎসা নির্দেশনা।
শহরে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান করলেও, ডা. এম এইচ কবির সবসময়ই নিজের গ্রামের মানুষের প্রতি বিশেষ টান অনুভব করেন। তিনি মনে করেন, গ্রামের অনেক মানুষের চিকিৎসা এখনও ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। সেই ভাবনা থেকেই তিনি নিয়মিতভাবেই গ্রামে এসে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে ডা. এম এইচ কবির বলেন—“চিকিৎসা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও এখনো অনেক মানুষ বিভিন্ন কারণে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকে। বিশেষ করে গ্রামে যারা দিনমজুর, কৃষক বা নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ—তাদের পক্ষে শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। তাই আমি চাই, চিকিৎসাসেবাকে তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। মানুষের কষ্ট দেখলে আমার আর পেশার কথা মনে থাকে না—মনে হয়, এটাই আমার দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন—“চিকিৎসা আমার কাছে সেবা, আর এই সেবার মাধ্যমেই মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়। গ্রামের শিশুদের সুস্থতা, মায়েদের সচেতনতা, বৃদ্ধদের নিরাপত্তা—এসব চিন্তাই আমাকে প্রেরণা দেয়। আমি চাই, গ্রামের মানুষ যেন বুঝতে পারে, তারা একা নয়—তাদের পাশে আমরা আছি। ভবিষ্যতেও আমি নিয়মিতভাবে এমন চিকিৎসা আয়োজন চালিয়ে যেতে চাই, যেন কেউ চিকিৎসার অভাবে অবহেলিত না হয়।”
চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই জানান, ডা. এম এইচ কবির অত্যন্ত আন্তরিক এবং ধৈর্যশীল ছিলেন। তিনি প্রতিটি রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং রোগ অনুযায়ী যথাযথ পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে স্থানীয় কৃষক ও শ্রমজীবীদের মতে, শহরে যাওয়ার কষ্ট, ভাড়া ও সময়ের অপচয় ছাড়াই তাঁরা একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পেয়েছেন—এটি তাদের জন্য অনেক স্বস্তির।
দিনব্যাপী এই চিকিৎসা কার্যক্রমে সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বর, রক্তচাপ, ব্যথাজনিত সমস্যা, ত্বক ও হাঁপানির মতো রোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যার ক্ষেত্রেও প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেন তিনি। উপস্থিত মানুষদের অনেকেই জানান, এমন উদ্যোগ যদি ধারাবাহিকভাবে চালু থাকে তবে গ্রামের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ডা. এম এইচ কবিরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, সমাজের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় তিনি যে সদিচ্ছা দেখিয়েছেন, তা অন্যান্যদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
গ্রামবাসীর প্রত্যাশা—ডা. এম এইচ কবির ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে থাকবেন এবং তাদের জন্য চিকিৎসাসেবার এই দরজা সবসময় খোলা রাখবেন।

