বর্ডার বাজার–রায়পুর সড়ক এখন মরণফাঁদ, সিংহেরপুল অংশে চরম ঝুঁকি: প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি
আব্দুল্লাহ আল মামুন,রায়পুর(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বর্ডার বাজার থেকে রায়পুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সড়কটি এখন খানাখন্দে ভরা এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে বর্ডার বাজার থেকে সিংহেরপুল পর্যন্ত অংশটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্যে এই সড়কে প্রতিদিন চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিশাল বিশাল গর্ত, ভাঙন, উঁচু-নিচু অংশ এবং নামমাত্র জোড়াতালির মেরামতের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি স্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণ বা টেকসই সংস্কার করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ কেবল সাময়িকভাবে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করেই দায় সেরেছে। এছাড়া বর্ডার বাজারের পরের কিছু অংশে নামমাত্র ইটের সোলিং (এইচবিবি) বসিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো পরিকল্পনা ও স্থায়িত্ব ছাড়াই করা এই কাজ টেকসই হয়নি। সামান্য বৃষ্টি, ভারী যানবাহনের চাপ ও নিয়মিত ব্যবহারের ফলে অনেক জায়গায় ইট দেবে গেছে, চাকা লেগে সরে গেছে কিংবা উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কটি আগের চেয়ে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আশপাশের এলাকার বেশ কয়েকটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। এছাড়া ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ হাজারো সাধারণ যাত্রীর নিত্যদিনের একমাত্র ভরসা এই পথটি। লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর অঞ্চলের মানুষের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হওয়ায় রায়পুর ও আশপাশের এলাকার রোগীরা জরুরি চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতাল কিংবা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য এই সড়কের ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের জরুরি যানবাহনকে এখন কচ্ছপ গতিতে চলতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মুমূর্ষু রোগীদের পোহাতে হচ্ছে অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক দুর্ভোগ।
স্থানীয় চালক ও পথচারীরা জানান, বিশেষ করে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার ও ছোট যানবাহনগুলো চলাচলের সময় আকস্মিক বড় বড় গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাচ্ছে। চলমান বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ ও ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো ডুবে থাকায় চালকেরা গর্তের গভীরতা বুঝতে পারেন না। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, প্রতিনিয়ত আহত হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এটি কেবল একটি সাধারণ গ্রামীণ বা স্থানীয় সড়ক নয়; এটি দুটি অঞ্চলের সংযোগকারী অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সংস্কারের অভাবে জনদুর্ভোগ এখন গণঅসন্তোষে রূপ নিয়েছে। সাময়িক তালি বা ইটের সোলিং দিয়ে যে এই সংকটের সমাধান হবে না, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রায়পুর উপজেলা প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) বলেন, “বর্ডার বাজার–রায়পুর সড়কটির বেহাল দশা এবং সিংহেরপুল অংশের চরম ঝুঁকির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বর্ষার কারণে এবং অতিরিক্ত মালবাহী যানবাহন চলাচলের ফলে সড়কটির কিছু অংশের ইটের সোলিং ও কার্পেটিং দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা সাময়িকভাবে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য কাজ করছি। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য পুরো সড়কটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ অনুমোদন হলেই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেছেন, বর্ডার বাজার থেকে রায়পুর পর্যন্ত পুরো সড়কটি যেন দ্রুত ও টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়। বিশেষ করে বর্ডার বাজার থেকে সিংহেরপুল পর্যন্ত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন। বড় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।

