

সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা : শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সুখী, সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নেত্রকোণায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২৫ পালিত হয়েছে। প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে কালেক্টরেট ভবন প্রাঙ্গণ ও সাতপাইয়ে নির্মিত স্মৃতিসৌধে সকল সরকারি, আধা সরকারি, সায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সকাল ৮টার দিকে নেত্রকোণা আধুনিক স্টেডিয়াম মাঠে শিশু-কিশোর সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ। সকাল ১০টায় শিশু একাডেমির উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গণে মহিলাদের অংশগ্রহণে আলোচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিনা টিকেটে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, এবং সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়। পরে স্থানীয় পাবলিক হলে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে সংবর্ধনা ও সন্ধ্যায় সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়। রাতে হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার ও প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
এদিকে জেলার বারহাট্টা উপজেলায় নানা আয়োজনের মাধ্যমে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা দিবস ২০২৫।দিবসটি উপলক্ষে প্রথমেই উপজেলা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বারহাট্টা উপজেলা প্রশাসন। পরে একে একে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বারহাট্টা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বারহাট্টা থানা পুলিশ, উপজেলা বিএনপি , যুবদল , জামায়াত ইসলাম সহ সকল অঙ্গ সংগঠন। এছাড়াও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বারহাট্টা সরকারি কলেজ, বারহাট্টা কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজ,রোজবাড কিন্ডারগার্টেন সহ অন্যান্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরে উপজেলা প্রশাসন এর উদ্যোগে অনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ডিসপ্লে ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অন্যদিকে যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সাথে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় উদযাপিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৫। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে কেন্দুয়া অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে ৩০২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়, যার মধ্যে ১৩৩ জন জীবিত এবং ১৬৯ জন মৃত মুক্তিযোদ্ধা। তাদের মধ্যে যারা জীবিত রয়েছেন তারা সরাসরি সংবর্ধনা গ্রহণ করেন এবং মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার সদস্যরা তাদের সম্মাননা গ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমদাদুল হক তালুকদার এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান। প্রধান অতিথির ইমদাদুল হক তালুকদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন বাজি রেখে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব। আমাদের সকলের দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা করা এবং তাদের আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।
অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুল হক, কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমান মজনু, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ফারুকী, জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাহিদ হাসান সাগর, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাই সেলিম এবং উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আফতাব উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মো. বজলুর রহমান, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো. আব্দুল কদ্দুস খন্দকার লালচানসহ বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের পরিবারের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। এরআগে দিনের শুরুতে ৩১ বার তোপধ্বনি, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ এবং পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিগুলোতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় অংশগ্রহণ করে।