জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে দূরপাল্লার পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের জন্য নির্মিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পার্কিং ও বিশ্রামাগারটি নির্মাণের পাঁচ বছর পার হলেও আজও চালু হয়নি। ফলে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নানাভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে।সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কের পাশে পাঁচলিয়া এলাকায় প্রায় ১৩ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই ট্রাক টার্মিনালটির সামনের অংশ।
বর্তমানে স্থানীয়রা ধান শুকানো ও গবাদিপশু রাখার কাজে ব্যবহার করছেন। রাত নামলেই পুরো এলাকা মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের দরজা-জানালা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে।জানা গেছে, টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দেশের চারটি জাতীয় মহাসড়কের পাশে দূরপাল্লার পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের জন্য আধুনিক পার্কিং সুবিধাসম্পন্ন বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে ২০২০ সালে সিরাজগঞ্জের পাঁচলিয়ায় এই ট্রাক টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, টার্মিনালটিতে একসঙ্গে প্রায় ১০০টি ট্রাক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকার কথা। পাশাপাশি ট্রাকচালকদের জন্য শয়নকক্ষ, ক্যান্টিন, গোসলখানা, নামাজ আদায়ের স্থান, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাকক্ষ, যানবাহনের ত্রুটি মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপ ও ওয়াশজোন থাকার কথা ছিল। কিন্তু নির্মাণ শেষ হলেও টার্মিনালটি চালু না হওয়ায় এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দূরপাল্লার ট্রাকচালকরা।
ট্রাকচালকদের অভিযোগ, বিশ্রাম ও নিরাপদ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় মহাসড়কের পাশে কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গাড়ি রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে চুরি ও ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ট্রাক টার্মিনালটি চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, অবহেলায় পড়ে থাকলে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় হবে। পাশাপাশি মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যর্থ হয়ে পড়বে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাক টার্মিনালটি চালু করার দাবি জোরালো হচ্ছে দিন

