কীর্তনখোলায় ফুল ভাসিয়ে ববি’র চাকমা শিক্ষার্থীদের ‘ফুল বিজু’ উদযাপন

Share the post
আব্দুল্লাহ আল মামুন, ববি প্রতিনিধি:বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চাকমা সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা কীর্তনখোলা নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিজু উৎসব উদযাপন করেছে।
রবিবার (১২ই এপ্রিল, ২০২৬) পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কীর্তনখোলা নদীতে ফুল ভাসিয়ে গঙ্গা দেবীকে পূজার মধ্য দিয়ে ‘ফুল বিজু’ উদযাপন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকমা শিক্ষার্থীরা।
রবিবার সকালে শুরু হয় তাদের এই ‘ফুল বিজু’ উৎসব। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে চাকমা জনগোষ্ঠীর নতুন বছর বরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। চাকমা সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব পোশাক পরিধান করে ফুল ভাসিয়ে কীর্তনখোলা নদীতে প্রার্থনায় মিলিত হয়।
এ বিষয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের (২০২১–২০২২) সেশনের শিক্ষার্থী রফিন চাকমা বলেন,
“বিজু আমাদের চাকমা সম্প্রদায় তথা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসীদের প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসব। বাংলা বছরের শেষ দুই দিন এবং পহেলা বৈশাখ—মোট ৩ দিন আমরা এই উৎসব পালন করে থাকি। এই তিন দিনকে আমরা যথাক্রমে ‘ফুল বিজু’, ‘মুর বিজু’ এবং ‘গোজ্জে পোজ্জে’ হিসেবে পালন করি। এছাড়া অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীরা তাদের নির্দিষ্ট নামে পালন করে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা আজকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানরত আদিবাসী শিক্ষার্থীরা মিলে ফুল বিজু পালন করেছি। আজকের দিনটিতে মূলত আমাদের গঙ্গা মা (গাংমাতা)-এর উদ্দেশ্যে নদীতে ফুল দিয়ে থাকি। যেখানে আমরা নিজের, পরিবারের তথা সকলের সুখ, শান্তি এবং মঙ্গলকামনায় পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাই। এরপরের দিনটি হচ্ছে ‘মুর বিজু’। এই দিনে আমরা নানারকম ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করি, যার প্রধান আকর্ষণ ‘পাজন’, যেটা কয়েক প্রকার সবজি দিয়ে রান্না করা হয়। এই দিনে আত্মীয়-স্বজন সবাই মিলিত হই। বিজু শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে লালন এবং রক্ষা করার একটি বিশেষ দিন। তবে ঐতিহ্য রক্ষা করা শুধু একটি জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি রাষ্ট্রেরও একটি দায়িত্বের বিষয়। তাই আমি বিশ্বাস করি রাষ্ট্র আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহযোগী হবে।”
ইতিহাস বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী স্নেহা চাকমা বলেন, “বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসুক উৎসব শুধু আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং এটি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধনকে দৃঢ় করে। প্রতিবছর এই উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে আয়োজন করা হয় খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, পালাগান, পাজন ও পিঠা উৎসব এবং এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির প্রদর্শনী করা হয়ে থাকে।”
উল্লেখ্য, জানা যায় চাকমা জনগোষ্ঠী আগামী ৩ দিন পর্যন্ত বিজু উৎসব উদযাপন করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রতিবাদে ববি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মানববন্ধন

Share the post

Share the postআব্দুল্লাহ আল মামুন, ববি প্রতিনিধি:শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রতিবাদ, রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মানববন্ধন করেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন। মানববন্ধনে বক্তারা শিক্ষাঙ্গনে চলমান সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সমালোচনা করেন, পাশাপাশি অনতিবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধের […]

ঢাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ববি সাংবাদিকদের মানববন্ধন

Share the post

Share the postআব্দুল্লাহ আল মামুন, ববি প্রতিনিধি:পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। এসময় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান তাঁরা। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৪:৩০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। […]