কবির হোসেন রাকিব লক্ষ্মীপুর :লক্ষ্মীপুর জেলা কমলনগর উপজেলা গ্রামীণ জনপদগুলোতে চোখ মেললেই দেখা যায় সারি সারি সুপারি গাছ। বাড়ির আঙিনা, উঠান, পাশের জমি কিংবা গ্রামের যেকোনো খালি জায়গায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে এই সুপারি গাছগুলো। স্থানীয় কৃষকদের কাছে এটি এখন শুধু একটি ফসল নয়, বরং একটি স্থায়ী আয়ের উৎস, যা বদলে দিচ্ছে জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি।
জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সুপারি চাষের প্রচলন রয়েছে। কম খরচ, সহজ পরিচর্যা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সুপারি এখানে স্বাভাবিকভাবেই ভালো ফলন দেয়। ফলে কৃষকেরা বছরে একাধিকবার সুপারি বিক্রি করে আয় করতে পারেন। স্থানীয় কৃষকদের ভাষায়, “চাহিদা ভালো, ঝুঁকি কম—তাই সুপারি এখন আমাদের নির্ভরতার জায়গা।”
বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে পতিত জমি—সব জায়গাতেই সমানভাবে বেড়ে ওঠে সুপারি গাছ। মাটির বিশেষ কোনো প্রয়োজন নেই, শুধু কিছুটা যত্ন আর প্রাকৃতিক পরিবেশই যথেষ্ট। কৃষকরা জানান, গাছ লাগানোর তিন–চার বছরের মধ্যেই ফলন আসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফলন বাড়ে এবং দীর্ঘসময় ধরে প্রতিটি গাছ থেকেই নিয়মিত সুপারি পাওয়া যায়।
লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত সুপারি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর পাঠানো হয় নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। মৌসুমে প্রতিদিনই পাইকাররা জেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে সুপারি কিনে নেন। এর ফলে এলাকায় গড়ে উঠেছে সুপারি কেন্দ্রিক এক বড় বাজার ব্যবস্থাপনা, যেখানে অনেক মানুষ শ্রমঘন কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।
সুপারি বিক্রি থেকে পাওয়া আয় সরাসরি কৃষকের পরিবারে পরিবর্তন আনছে। অনেকেই জানিয়েছেন, ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় সুপারিতে লাভ বেশি। বাড়তি আয়ের ফলে পরিবারের চাহিদা মেটানো, সন্তানের শিক্ষায় ব্যয়, এমনকি ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করতেও ভূমিকা রাখছে এই ফসল।
এলাকার চাষিরা মনে করেন, লক্ষ্মীপুরে যদি সুপারি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা যায়—তাহলে শুধু উৎপাদন নয়, লাভও বহুগুণে বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, আর সুপারি হবে এ অঞ্চলের অন্যতম শিল্পভিত্তিক শক্তি।
চাষিরা বলেন, “এখানে যদি শুকানো, কাটিং বা প্যাকেটজাত করার মতো প্রক্রিয়াজাত কারখানা হতো, আমরা ন্যায্যমূল্য পেতাম। এলাকায় আরও অনেকেই সুপারি চাষে আগ্রহী হতো।”
সরকারি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে সুপারি হতে পারে লক্ষ্মীপুরের প্রধান অর্থকরী ফসল—এমনটাই মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকরা। সুপারিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে নতুন শিল্প সম্ভাবনা, যা বদলে দিতে পারে জেলার কৃষি অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।

