ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান: ফিলিং স্টেশনের দুই ইউনিট বন্ধ, দই বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার পরামর্শ
মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:ফরিদপুরের সদর, মধুখালী ও বোয়ালমারী উপজেলায় পণ্যের গুণগত মান, পরিমাপ এবং মোড়কজাত নিবন্ধন যাচাইয়ে সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), ফরিদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে বোয়ালমারীর একটি ফিলিং স্টেশনের অকটেন ও ডিজেল সরবরাহের দুটি ডিসপেন্সিং ইউনিটে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম জ্বালানি পাওয়ায় ইউনিট দুটি সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারীর আমগ্রামের স্বাধীন ফিলিং স্টেশনে প্রতি ১০ লিটার অকটেনে ৩৭০ মিলিলিটার এবং ডিজেলে ৩৩০ মিলিলিটার কম পাওয়া যায়। পরে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮’-এর ১৫(৩) ধারা অনুযায়ী অকটেন ও ডিজেলের ডিসপেন্সিং ইউনিট দুটি সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযানে মধুখালীর নাহার ফিলিং স্টেশনের পেট্রোল, পারিশা ফিলিং স্টেশনের পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল এবং মেসার্স মোজাফফর ফিলিং স্টেশনের পেট্রোল ও ডিজেল ডিসপেন্সিং ইউনিটে পরিমাপ সঠিক পাওয়া যায়। এছাড়া সদর উপজেলার কানাইপুরের মেসার্স মমতাজ ফিলিং স্টেশন এবং মেসার্স হোসেন ফিলিং স্টেশনেও জ্বালানি পরিমাপে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।
তবে কয়েকটি মিষ্টির দোকানে প্রয়োজনীয় সিএম লাইসেন্স ও মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ ছাড়াই ফার্মেন্টেড মিল্ক (দই) উৎপাদন ও বিক্রির বিষয়টি পাওয়া যায়। মধুখালী বাজারের জননী হোটেল এন্ড মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, সাহা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, গণেশ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মা সুইট মিট এবং কালিপদ ঘোষ এন্ড সন্সকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিবন্ধন সনদ গ্রহণ না করা পর্যন্ত দইয়ের বিক্রয়-বিতরণ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এছাড়া ফরিদপুর সুগার মিলস লিমিটেডের প্লান্টেশন হোয়াইট সুগার পণ্যের সিএম লাইসেন্স নবায়নের জন্য বকেয়া লাইসেন্স ফি’র চেক সংগ্রহ করা হয়। পারিশা ফিলিং স্টেশনের ট্যাংকলরি ক্যালিব্রেশন সনদ এবং হোসেন ফিলিং স্টেশনের আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যালিব্রেশন সনদ নবায়নের জন্যও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, ফরিদপুরের উপপরিচালক ও অফিসপ্রধান মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানে সহকারী পরিচালক (মেট) আলেয়া খাতুন এবং ফিল্ড অফিসার (সিএম) প্রকৌশলী এস এম সোহরাব হোসেন অংশ নেন।
বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে পণ্যের গুণগত মান, সঠিক পরিমাপ এবং মোড়কজাত নিবন্ধন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

