আশিকুর রহমান, নরসিংদী : নরসিংদীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেই কোনো উদ্যোগ। গত দুই-তিনদিনে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী। এর মধ্যে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে সরকারি হাসপাতালে প্রায় ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। কিন্তু বাস্তবে বলছে অন্য কথা। বর্তমানে জেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে জ্বর-ঠান্ডা ও কাঁশিতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলো চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। ওইসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে পরীক্ষা করিয়ে দেখা যাচ্ছে বেশীর ভাগ রোগীই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। রোগীর প্লাটিলেট একেবারে কমে গেলে চিকিৎসকরা রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। নতুবা আক্রান্ত রোগীরা বেশির ভাগই নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত নরসিংদী জেলায় মোট ১২৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন জেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে রয়েছেন ১১ জন, জেলা সদর হাসপাতালে ৩ জন এবং মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন। পলাশ, শিবপুর ও রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই। পাশাপাশি সিভিল সার্জন সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জনসচেতনতায় নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমে থাকা স্থানগুলো নিয়মিত পরিস্কার করতে বলা হয়েছে, যাতে এডিস মশার প্রজনন ঠেকানো যায়।

