রুশ গণমাধ্যমে মেটার নিষেধাজ্ঞা
ইউক্রেনে হামলা চালানোর ঘটনায় রাশিয়ার ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি, ব্যাংক, তেল শোধনাগার ও সামরিক রপ্তানিকে লক্ষ্য করে এসব নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়াকে কার্যক্রম চালাতে দেবে না।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর ক্রেমলিনপন্থি বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। এর জেরে ফেসবুকের ওপরও পাল্টা বিধিনিষেধ দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। ফলে দেশটির নাগরিকরা ফেসবুকে ঢুকতে সমস্যার মুখে পড়ছেন।
শুক্রবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ পর্যবেক্ষণকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোসকোমনাডজোর জানায়, তাদের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি, রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল জাভেজদা এবং ক্রেমলিনপন্থি দুটি নিউজ পোর্টালের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফেসবুক। এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আহ্বান জানিয়েছিল রাশিয়া। কিন্তু ফেসবুক সেই বিধিনিষেধ তোলেনি। তাই ফেসবুকের ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ দিয়েছে মস্কো।
এদিকে ইউক্রেনে হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলো পশ্চিমা বিশ্ব। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিলেন রুশ প্রেসিডেন্টও। বৃহস্পতিবারের হামলা শুরুর পর আসতে শুরু করেছে একের পর এক অবরোধ।
রয়টার্স বলছে, ফেসবুকের মূল সংস্থা ‘মেটা’র গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের প্রধান নিক ক্লেগ টুইটারে জানিয়েছেন, রুশ কর্তৃপক্ষ তাদের চারটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত কনটেন্টের ওপর ফ্যাক্ট-চেক করা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি। ফলে তারা আমাদের ওপর বিধিনিষেধ দিয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন পুতিনের ওপর।
রাশিয়ার দুটি বৃহত্তম ব্যাংকসহ মোট ৫ ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।এছাড়া কিছু জেষ্ঠ্য কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।অন্যদিকে, রাশিয়ার মিত্র দেশ বেলারুশের ২৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বড়সর এক প্যাকেজ উন্মোচন করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পুতিনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং যেসব রুশ নাগরিক লন্ডনে বিলাশ বহুল জীবনযাপন করেন।
রাশিয়ার সঙ্গে দ্বৈত রপ্তানি লাইসেন্স স্থগিতের পরিকল্পনাও করেছে যুক্তরাজ্য।
রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৬২ ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কানাডা।
এছাড়া সকল রপ্তানি পারমিট বাতিল করেছে দেশটি। আবার ইউক্রেনীয়দের মধ্যে যারা কানাডায় আসতে চায় তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছে ট্রুডো প্রশাসন।রাশিয়ার আর্থিক, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রস্তুত ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এছাড়া আরো রুশ নাগরিককে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে রাশিয়ার ৩৩৯ এমপির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়াও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নিউজিল্যান্ড, জাপান, তাইওয়ান ও চেক রিপাবলিক।

