সৈয়দপুর উপজেলার সাতপাই স্কুল ও কলেজের (স্কুল শাখা)’র সীমাহীন দুর্নীতি।

Share the post

মোঃ মাইনুল হক,রংপুর প্রতিনিধি: সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের (স্কুল শাখা) জমি না থাকার পরেও পূর্বের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সভাপতিরা দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন অফিসকে নানা উপায়ে ম্যনেজ করে ভুয়া খাজনা রশিদ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতি নবায়ন করে আসছিলো। প্রাইমারী স্কুল এর অভিযোগ ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করলে কাশিরাম বেলপুকুর তহশীল অফিস ১৫৮৬, ১৫৭৪ খতিয়ান ভুক্ত ৬০৮৪, ৬০৮৫, ৫৩৭২, ৫৩৭৬ দাগে ৩.১৫ একর জমি সাতপাই স্কুল ও কলেজের নামে নাই বলে সহকারী কমিশনার (ভুমি), সৈয়দপুর নীলফামারী কে তার লিখিত মতামত দেয়। তদন্তে আরো বলা হয় প্রতিষ্ঠানটির নামীয় দলিলটি সম্পূর্ণ যোগসাজসী দলিল। প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখার M.P.O ভুক্ত শিক্ষক ও কমর্চারীরা সরকারী আর্থিক সুবিধা (M.P.O বেতন) দীর্ঘদিন যাবত সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে গ্রহন করে আসছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান শিক্ষক প্রতিনিধি (স্কুল শাখা) জনাব মোঃ আব্দুল হাকিম বলেন, প্রতিষ্ঠানের জমি আছে। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়- “জমি থাকলে কেন ভুয়া খাজনা দিয়ে স্বীকৃতি নবায়ন করে আপনারা (M.P.O বিল) বিলের সরকারী অংশ অবৈধ ভাবে উত্তোলন করে আসছেন।”- এ প্রসঙ্গে তিনি জানান আমি স্কুল শাখার বর্তমান শিক্ষক প্রতিনিধি, পূর্বের প্রতিষ্ঠান প্রধানেরা প্রতিষ্ঠানের জমি থাকার পরও কেন ভুয়া খাজনা রশিদ দেখিয়ে স্বীকৃতি নবায়ন করেছেন তা সে সময়ের কমিটির সদস্যরা ভালো বলতে পারবেন। তাছাড়া এমনও হতে পারে তহশীল অফিস বিষয়টি জানার পরও তারা ভুয়া খাজনা পরিশোধের বিষয়ে সে সময়ের কমিটিকে সহায়তা করেছে। এ ভুয়া খাজনার বিষয়ে তহশিল অফিস দ্বায় অস্বীকার করতে পারে না, অপরাধ করলে তো তহশীল অফিসও করেছে। অফিস সহকারী মোঃ খালেকুজ্জামান দীর্ঘ দিন ধরে কেন টাকা ব্যাংকে জমা করছে না জানতে চাইলে তিনি জানান অফিস সহকারী টাকা জমা না দিয়ে আমাদের ভাগ-বাটোয়ারা করে দিয়েছে। “অফিস সহকারী কোন ক্ষমতা বলে আপনাদের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে দিয়েছে। আপনি স্কুল শাখার বর্তমান শিক্ষক প্রতিনিধি হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সরকারি বিধিমালা অমান্য করায় কেন অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেননি। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নীতিমালায় তো টাকা হাতে হাতে খরচ করার এখতিয়ার নাই। আপনারা কি সভাপতি, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কিংবা জেলা শিক্ষা অফিসার এর নিকট লিখিত অনুমতি নিয়ে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করেছে, তারা কি টাকা ভাগ-বাটোয়ারার লিখিত অনুমতি নিয়েছেন”- জানতে চাইলে তিনি জানান এ বিষয়ে লিখিত অনুমতি নিতে যাব কেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী বেতন ও অন্যান্য আদায় বাবদ যে টাকা দেয় তাই তো আমরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছি। এ বিষয়ে সভাপতি অথবা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এর অনুমতির নিতে যাব কেন। আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে অফিস সহকারী মোঃ খালেকুজ্জামান বলেন, রেজা চৌধুরী ম্যানেজিং কমিটির অবৈধ সভাপতি। আমরা তাকে মানি না,কোন দিন মানবো ও না। তাই শিক্ষক প্রতিনিধি ( স্কুল শাখা) হাকিম স্যার, খলিল স্যার, মেহের স্যার আমাকে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যাংকে জমা দিতে নিষেধ করেন। পরে বিভিন্ন সময় সেই অর্থ শিক্ষক প্রতিনিধি (স্কুল শাখা) হাকিম স্যার সহ সিনিয়র স্যার ম্যাডামদের নির্দেশে ভাগ-বাটোয়ারা করে দেই। প্রতিষ্ঠানের টাকা হাতে হাতে খরচ করেছেন কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, আর্থিক অনিয়ম যদি হয়েও থাকে, আমি ইচ্ছা করে কোন অর্থিক অনিয়ম করি নাই। আমি শুধু শিক্ষক প্রতিনিধি (স্কুল শাখা) হাকিম স্যার সহ অন্য সিনিয়র শিক্ষকের নির্দেশ পালন করেছি মাত্র। “আপনি বলছেন আপনাদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অবৈধ, তাছাড়া আপনাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তার তদন্ত করেন। বোর্ডের নির্দেশে তিনি তো বিলে সই করছেন। আপনারা বোর্ড তথা সরকারী আদেশের বিরোধিতা করছেন কেন। তাছাড়া তিনি তো গভর্নিং বডির সদস্য, আপনারা বার বার ম্যানেজিং কমিটির অবৈধ সভাপতি বলছেন। বোর্ড তাকে যথাযথ নিয়ম মেনে সভাপতি ঘোষনা না করে থাকলে এ অপরাধ তো বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার। তাছাড়া শুনেছি আপনাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেজা চৌধুরীকে দাতা সদস্যদের পদ থেকে অব্যহতি দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুর দ্বিতীয় দফায় তাকে শুধু মাত্র সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করে আদেশ জারি করেছে। অভিযোগ করলে তো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর এর সর্বশেষ আদেশের বিরুদ্ধে করতে হবে। এর অর্থ দাড়াচ্ছে আপনারা সরকারি আদেশ ও বিধিমালার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।”- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি এ বিষয়ে সবার সাথে কথা বলে জানাবেন। প্রতিষ্ঠানের ভুয়া স্বীকৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্বীকৃতি নবায়ন করতে হলে নিয়মিত কমিটির শিক্ষক ও কমিটির অন্য সদস্যদের নিয়ে একটা অভ্যন্তরীন কমিটি করতে হয়। তারা এই বিষয় দেখভাল করে স্বীকৃতি নবায়ন সম্পন্ন করেন। আমার এতে কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। স্বীকৃতি নবায়ন অবৈধ হলে উক্ত বিষয়ে সমস্ত দায়-দ্বায়ীত্ব তাদের। অবৈধ M.P.O বিল উত্তোলন ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম এর বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র শিক্ষক জনাব মোঃ খলিলুর রহমান জানান আমি সদ্য অবসরে গেছি। আমাকে এই সব বিষয়ে না জড়ানোই ভালো। আপনি প্রতিষ্ঠানের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারার সাথে জড়িত কি না জানতে চাইলে তিনি জানান হাকিম স্যার ও মেহের স্যার এর নির্দেশে টাকা ভাগাভাগি করা হয়, আমি অন্যান্য শিক্ষকদের মত শুধুমাত্র টাকার ভাগ নিয়েছি। কমিটির স্কুল শাখার অভিভাবক সদস্য জনাব মোঃ ইলিয়াস জানান,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ভারতে মহানবী (সা.) কে কটুক্তির প্রতিবাদে দিনাজপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ

Share the post

Share the postদিনাজপুর প্রতিনিধিঃ ভারতের মহারাষ্ট্রের পুরোহিত রামগিরি মহারাজ ও বিজেপি সাংসদ নিতেশ নারায়ন রায় কর্তৃক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শান নিয়ে কটুক্তি ও অবমাননা করায় দিনাজপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন দিনাজপুরের সর্বস্থরের ধর্ম প্রাণ সাধারন জনগণ। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে […]

ঠাকুরগাঁও ডিসি অফিসের কর্মচারী চাকুরীর কয়েক বছরে অঢেল সম্পদের মালিক তরিকুল

Share the post

Share the postজুনাইদ কবির,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি হুকুম দখল ও গোপনীয় শাখা’র কর্মচারী তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (আদিবাসী) রনজিৎ তিগ্যা সহ স্থানীয়রা তাঁর দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের (ডিসি) […]