সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক,হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি : দ্বীপাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে প্রশংসনীয় মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রকৌশলী দিদারুল ইসলাম শিক্ষা ট্রাস্ট। ট্রাস্টের উদ্যোগে হাতিয়া উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি, সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে হাতিয়া শহর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে হাতিয়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সহযোগিতায় এ সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর উদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মো. এনামুল হক।
এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহির উদ্দিন, হাতিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আ.ন.ম হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু সোলেমান এবং প্রকৌশলী দিদারুল ইসলামের পিতা মো. আবদুর জাহের।
হেদায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামারুল ইসলাম কচি ও হাতিয়া শহর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সোহেল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুখচর আজহারুল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল গফুর, বুড়িচর শহীদ আলী আহমদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম নোমান ছিদ্দিক, হাতিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম ইব্রাহিম, চৌমুহনী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরেফিন আলীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা।
অনুষ্ঠানে হাতিয়া উপজেলার ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৮৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে নগদ অর্থ, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, আয়োজিত মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ১৬৬ জন শিক্ষার্থী। কঠোর মূল্যায়ন ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সেখান থেকে এই ৮৪ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, দ্বীপাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যে মেধা ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দিচ্ছে, এই বৃত্তি তাদের সেই অদম্য প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। এমন শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী, আত্মবিশ্বাসী ও ভবিষ্যৎ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন

