মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:ফরিদপুরে সাংবাদিকসহ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২১ দিন পর ৪নং পলাতক আসামী সাব্বির মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মল্লিকপুরের বড় মাধবপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) জ্যোতির্ময় মল্লিক।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২০ জুলাই এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর-৪৪, বার্ষিক নম্বর-৫৪৫। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই সকাল ৯টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় জমি মাপজোকের বিষয়ে স্থানীয়দের দাওয়াত দেওয়ার সময় মোঃ ইউসুফ মিয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে হত্যার চেষ্টা করে।
এ সময় ইউসুফ মিয়াকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ছেলে মো. মাফিককেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহাবুব মিয়ার ওপর লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। এছাড়া ইউসুফ মিয়ার স্ত্রী ফরিদা আক্তার ও মেয়ে ঋতিকেও মারধর করে আহত করার অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় মাজেদ মিয়া, হাশেম মিয়া, সাব্বির মিয়া, নাজিম মিয়া ও কালাম মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, মামলার ২১ দিন পর ৪নং আসামি সাব্বির মিয়া গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে মামলার ১নং আসামি মো. মাজেদ মিয়া, ২নং আসামি মো. হাশেম মিয়া এবং ৪নং আসামি হিসেবে উল্লেখ করা মো. নাজিম মিয়াসহ পলাতক অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে তারা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জ্যোতির্ময় মল্লিক বলেন, সময় লাগলেও আমরা ৪নং আসামি সাব্বির মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। মামলার বাকি পলাতক আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, তাদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

