নেত্রকোনায় নাব্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে কাঠের বাজার, সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব

Share the post
সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা : সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে দিন দিন ঐহিত্য হারাচ্ছে নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর প্রসিদ্ধ লেপসিয়ার কাঠের বাজার। শত বছরের পুরনো বাজারকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করা শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে পেশা বদলে পাড়ি জামাচ্ছেন শহরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর সরকার বিচ্ছিন্ন দ্বীপের এই বাজার থেকে কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও, বাজারটিকে রক্ষায় নেই কোনো উদ্যোগ। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের চারদিকে অথৈই পানি। নেত্রকোনা জেলাসহ নিজ উপজেলা থেকেও বিচ্ছিন্ন লেপসিয়া বাজারটি। রাজশাহী, কুমিল্লা, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাঠের আমদানি-রফতানি হচ্ছে এই বাজারে। কিন্তু অপরিকল্পিত বাঁধসহ পিয়াই নদী ভরাটে বর্ষাকালেও এখন নাব্য কমে যাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে নৌ চলাচলে। ফলে কমছে ব্যবসার প্রসার। নাব্য সংকটে একমাত্র নৌ যোগাযোগের মাধ্যমটি বন্ধ হয়ে পড়ায় কয়েক বছর ধরে শুধুমাত্র মাস তিনেক চলে এই ব্যবসা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাঠ বেচাকেনাকে ঘিরেই এই এলাকার মানুষজনের জীবিকা। এই ব্যবসার সাথে জড়িত কয়েক হাজার পরিবার। বাজারের ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, প্রতি সপ্তাহের হাটে কোটি টাকার বেচাকেনা হয়। একসময় সারাবছর পিয়াই নদীতে পানি থাকতো। ফলে সিলেট-কিশোরগঞ্জসহ কাঠের বিক্রি হতো বিভিন্ন জেলায়। দিনে দিনে নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে শুধুমাত্র ভরা বর্ষায় চলমান থাকে এই ব্যবসা।তাদের অভিযোগ, ফসল রক্ষার নামে অবৈধ সুবিধাভোগীদের যোগসাজশে যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানেও বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর ফলে পানি আসা বাধাগ্রস্ত হয়। সেই সাথে প্রতিবছর বাঁধের মাটি গিয়ে ভরাট হয়ে হাওড়সহ নদীর তলদেশে পলি জমে নাব্য হারাচ্ছে। ঐহিত্যবাহী এই বাজার থেকে রাজস্ব আয়সহ প্রসিদ্ধতার কথা উল্লেখ করে নাব্য সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে ঐহিত্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে ধনু নদীর তীরে ঐতিহ্যবাহী কাঠের বাজার চির সবুজের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি নেত্রকোনা,এ জেলার মাঝে অভিরাম বয়ে চলেছে অনেক সুন্দর সুন্দর নদী। জেলার ধনু নদীর তীর ঘেঁষা খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম আর এই গ্রামেই রয়েছে জেলার ঐতিহ্যবাহী কাঠের বাজার লেপসিয়া। বহু প্রাচীন এ বাজারে নদীর পাড়েই নেত্রকোনা জেলার সবচেয়ে বড় কাঠের মোকাম। ধনু নদীর পূর্ব পাড়ে লেপসিয়া গ্রামের মোহনায় বিশাল এলাকা জুড়ে চলে কাঠের এ বাণিজ্য। এক সময়ে সুন্দরী কাঠের বিশাল বাজার হিসাবে পরিচিত নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের লেপসিয়া এখন দেশীয় গ্রামীণ কাঠের সর্ববৃহৎ ভাসমান বাজার।গোল কাঠ বিক্রির জন্য নিয়ে নেত্রকোনা জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার ছোট ও মাঝারি কাঠ ব্যাবসায়ীরা আসেন এই বাজারে আর সেই কাঠ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে নৌ-যোগে এবং ট্রাকের মাধ্যমে চলে যায় রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ভাসমান এ কাঠ বাজারে প্রতি শনিবার প্রায় কোটি টাকার কাঠ বেচাকেনা হয়।কালের বিবর্তনে দেশীয় কাঠের ব্যবসা শুরু করে এখানকার ব্যবসায়ীরা। যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় নেত্রকোনার সর্ববৃহৎ ভাসমান কাঠের বাজারে।
লেপসিয়া ধনু নদীর পাশেই রয়েছে শালদীঘা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও মুক্তিযোদ্ধাচরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি ব্যবসায়িক বলয়। ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হাজার হাজার ব্যবসায়ী কাঠ বিক্রি করেন ওই বাজারে। লেপসিয়া বাজারে কেনা কাঠ চেরাই করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারে নিয়ে বিক্রি করা হয়।ব্যবসা-বাণিজ্য সমৃদ্ধ খালিয়াজুরী উপজেলাটি গোটা দেশে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও কিছু অসাধু ব্যাক্তির পদচারণায় বর্তমানে ব্যবসায়ীদের দুর্দিন যাচ্ছে। ধনু নদীর পশ্চিম পারে ও আরেকটি বাজার রয়েছে আদর্শ নগর। এখানেও চলে কাঠের জমজমাট ব্যবসা। ধনু নদীর মধ্যে বড় বড় নৌকা বোঝাই কাঠ আর কাঠ। কখনও কখনও নানান রকম গাছ পানিতে ভাসিয়েও রাখা হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঠ ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন কাঠ কিনতে। বড় বড় কার্গো জাহাজ বোঝাই করে সেসব কাঠ পাঠিয়ে দেওয়া হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে।
দেশের সর্ববৃহৎ কাঠের বাজার লেপসিয়াতে একটি ট্রাক লোড পয়েন্ট নির্মাণ করা হলে বাড়বে ব্যবসার প্রসার, কমবে কাঠের মূল্য ও পরিবহন খরচ, বাঁচবে সময়। তাই সরকারের কাছে একটি ট্রাক লোড পয়েন্টের দাবী লেপসিয়া বাজার কাঠ ব্যবসায়ীদের। এবিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন,শুনেছি লেপসিয়া বাজারটি জেলার ভিতরে কাঠের জন্য বিখ্যাত, এই বাজারে প্রতি শনিবার দেশের দূর দূরান্ত থেকে শত শত কাঠ ব্যবসায়ী এই বাজারে কাঠ বেচাকেনা করে,প্রতি শনিবার এই বাজারে কোটি কোটি টাকার কাঠ বেচাকেনা হয়।এই বাজারটি নিয়ে আমি উপর মহলে কথা বলবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

তিন ধর্মের মানুষ দিয়ে খাল খনন উদ্বোধন করিয়েছেন : ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

Share the post

Share the postতোবারক হোসেন খোকন দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: সম্প্রীতির বন্ধনের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নে তিন ধর্মের মানুষের প্রতিনিধি দিয়ে ৫ হাজার মিটার খাল খনন কাজ উদ্বোধন করিয়ে আবারো সম্প্রীতির এক দৃস্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি।   সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রুহানীকান্দা এলাকায় মুসলিম, […]

নির্মানের ৫ দিন না যেতেই হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ

Share the post

Share the postতোবারক হোসেন খোকন দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের চারিয়া মাসকান্দা থেকে মাকড়াইল বাজার পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে গুরুতপূর্ণ এই সড়কটি। সড়কে অন্যান্য কাজ শেষ হওয়ার পরেই চলমান ছিলো পিচ ঢালাইয়ের কাজ। পাঁচদিন হয় শেষ হয়েছে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। এরই মধ্যে হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার পিচ। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় স¤প্রতি সংস্কার […]