নতুন ট্রেনে চড়তে পেরে যাত্রীরা খুশি

Share the post
চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে নতুন ট্রেন চালু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ
চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে নতুন ট্রেন চালু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম: পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে সেলফি নিলেন যাত্রী আব্দুল্লাহ আস সাঈদ। ফেসবুকে আপলোড দিয়ে ক্যাপশন লিখলেন, অনেকদিন পর সিলেট রুটের নতুন ট্রেনে উঠলাম। একেবারে ঝকঝকে ট্রেনটি, নিজেকেও কেমন জানি নতুন নতুন লাগছে। ধন্যবাদ সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষকে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের বেশিরভাগ যাত্রী নতুন ট্রেনের ছবি তোলেন। কেউ ভিডিও কল দিয়ে পরিচিতজনদের সরাসরি দেখাচ্ছিলেন, আর কেউ নিজের মুঠোফোনে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেন।

চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে পুরাতন বগি সরিয়ে নতুন ১৪টি বগি যুক্ত করা হয় শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি)। এর আগে ২৬ জানুয়ারি উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনেও ইন্দোনেশিয়ায় তৈরি নতুন বগি যুক্ত করা হয়।

যাওয়া-আসা মিলিয়ে এ দু’টি ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন ২ হাজার ৪৪৪ জন। এর মধ্যে উদয়ন ট্রেনে এসি বার্থ ৩৬টি, এসি চেয়ার ১১০টি, শোভন চেয়ার ৪৫০টিসহ ৫৯৬টি সিট আছে। পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে এসি সিট ৬৬টি, এসি চেয়ার ১১০টি, শোভন চেয়ার ৪৫০টিসহ ৬২৬টি। আগে ট্রেন দু’টি ১৬/৩২ কম্পোজিশনে চলাচল করলেও নতুন নিয়মে ১৪/২৮ কম্পোজিশনে চলাচল করছে।

যাত্রী আব্দুল্লাহ আস সাঈদের বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুরে। চট্টগ্রামের জনতা ব্যাংক শাখার একজন কর্মকর্তা। জরুরি কাজে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, চাকরির কারণে চট্টগ্রামে গত ৫ বছর ধরে বসবাস করছি। প্রায় সময় বাড়িতে যেতে হতো লক্কর-ঝক্কর মার্কা ট্রেনে করে। সিট ঠিক ছিলো না, ওয়াশরুম নোংরা ও ভেতরে এবড়ো থেবড়ো অবস্থায় ছিলো পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দু’টি। ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা জার্নি ছিলো খুবই ভয়াবহ। বেশিরভাগ সময় অসুস্থ হয়ে যেতাম।

তিনি বলেন, এখন নতুন ট্রেনে চড়তে পেরে অনেক খুশি লাগছে। এ জন্য সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষকে অনেক কৃতজ্ঞতা। আশা করছি তারা এ দু’টি ট্রেনের মান ধরে রাখবেন।

মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার বাসিন্দা নাজমা আকতার তার তিন সন্তানকে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে দাঁড় করিয়ে মুঠোফোনে ছবি তুলছিলেন। পরে ‘ঙ’ বগির ২৭-২৮-২৯ নম্বর সিটে বসে সেখানেও সন্তানদের ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেন।

নাজমা আকতার বাংলানিউজকে বলেন, অনেকদিন পর নতুন ট্রেনে চড়ছি, তাই ছবি তুলছিলাম। সিলেট রুটের যাত্রীদের দাবি পূরণ করায় কর্তৃপক্ষকে অনেক ধন্যবাদ।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী বাংলানিউজকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে সিলেট রুটে দু’টি নতুন ট্রেন পেলেন যাত্রীরা। আমাদের কাছে যাত্রীদের চাহিদাই মুখ্য। পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। এ ছাড়া যাত্রীরা যেকোনো অভিযোগ ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য পরামর্শ বাক্সও বসানো হয়েছে। আমরা যাত্রীদের অভিযোগ ও পরামর্শ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখবো।

নতুন পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের প্রতিটি এসি বার্থের মূল্য ৮৫৭ টাকা আর শিশুর জন্য এই ভাড়া ৫৭০ টাকা, স্নিগ্ধার দাম ৭১৯ টাকা আর শিশুর জন্য ৪৭৮ টাকা, শোভন চেয়ার ৩৭৫ টাকা, শিশুর জন্য ২৫০ টাকা। উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের প্রতিটি এসি বার্থের মূল্য এক হাজার ৩৮ টাকা আর শিশুর জন্য ৯০১ টাকা, স্নিগ্ধা ৭১৯ টাকা আর শিশুর জন্য ৪৭৮ টাকা, শোভন চেয়ার ৩৭৫ টাকা, শিশুর জন্য ২৫০ টাকা।

উদয়ন এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ে রাত পৌনে ১০টায় এবং সিলেট পৌঁছে ভোর ৬টায়। আবার সিলেট থেকে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে। পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সিলেট থেকে সকাল সোয়া ১০টায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছে সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে। এ ছাড়া ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে সকাল ৯টায় ছেড়ে সিলেটে পৌঁছায় সন্ধ্যা ৬ টায়।

১৯৮৬ সালে পাহাড়িকা এবং ১৯৯৮ সালে উদয়ন ট্রেন চালু হয়। ট্রেন দু’টি চালুর পর থেকে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিলো রেলের সিলেট-চট্টগ্রাম রুট। এবার এ রুটের যাত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় নতুন ট্রেনে চলাচল করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

চট্টগ্রামে প্রকাশ্য বন্দুকযুদ্ধে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত, জিম্মি অন্তত ৩

Share the post

Share the post মো: সাইদুর রহমান সুমন, ব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম :চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক র‍‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। নিহত র‍‍্যাব সদস্যের নাম মোতালেব। তিনি ডিএডি পদমর্যাদায় র‍‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন র‍‍্যাব সদস্য আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া দুর্বৃত্তের হাতে জিম্মি রয়েছেন র‍্যাবের […]

তিন দশকের বিতর্কের অবসান: ভাসানচর চূড়ান্তভাবে সন্দ্বীপের অন্তর্ভুক্ত।

Share the post

Share the post শাহাদাত হোসেন সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :দীর্ঘ তিন দশকের প্রাকৃতিক পরিবর্তন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও সামাজিক আন্দোলনের পর অবশেষে ভাসানচরের মালিকানা নিয়ে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটেছে। ভূমি মন্ত্রণালয় চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে— ভাসানচরের ছয়টি মৌজা চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্য দিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়া ও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সীমানা […]