গভীর রাতে পুড়ে ছাই আড়াইশ হাঁশ-মুরগিসহ দোকান

Share the post

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ইয়াসিন আরাফাত :চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাতের অন্ধকারে অগ্নিকাণ্ডে একটি মুরগির দোকান ও প্রায় আড়াইশ মুরগি ও হাঁস পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (১৯ মার্চ) রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের চাঁপাই মহেশপুর বাজারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান দোকান মালিক।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ করে আগুন দেখতে পেয়ে ছুটে যায় স্থানীয়রা৷ পরে স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। তবে এর আগেই দোকানঘর ও সেখানে থাকা সমস্ত হাঁস-মুরগি এবং খাবার পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক হাসান আলী বলেন, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে দোকান লাগিয়ে বাসায় যায়। পরে স্থানীয়রা ফোনে জানায় দোকানে আগুন লেগেছে। তাড়াতাড়ি করে দোকানে এসে দেখি আগুনে পুড়ে দোকানঘর, আসবাবপত্র, হাঁস, মুরগি, খাবার সবকিছু পুড়ে গেছে। সবকিছু তছনছ হয়ে গেল আগুনে। তবে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

অগ্নিকান্ডে ১২৫ পিস বয়লার, ৪০ পিস হাঁস, ছোট প্যারেন্টস মুরগি ১২টি, বড় ৩৬টি, সোনালী ১৮টি ও ১৫টি বড় লেয়ার মুরগি পুড়েছে বলে জানান দোকান মালিক হাসান আলী।  তিনি আরও জানান, অগ্নিকান্ডে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকার মুরগি ও ৩১০০ টাকার মুরগির খাবারসহ মোট আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আওয়াল জানান, হাসানের মুরগির দোকানের পাশেই আমার জামাকাপড়ের দোকান। অল্পের জন্য আমার দোকান রক্ষা পেয়েছে। স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানালা দিয়ে আগুন দেখতে পেয়ে আশেপাশের লোকজনকে ডেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দোকানটি দেয়া মাত্র ৬ মাস হলো। ধারদেনা করে দোকান দিয়েছিল। হাঁস, মুরগিসহ দোকানের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। দোকানদার হাসান একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেল।

গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মো. তাসেম আলী জানান, মুরগির দোকানদার হাসান আলী অনেক দেনাগ্রস্থ হয়ে দোকানটি স্থাপন করেছে কয়েকমাস হলো। কিন্তু গভীর রাতের অগ্নিকান্ডে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ইদের আগে এমন অবস্থা হওয়ায় পথে বসার উপক্রম। স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি হাসানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়।

এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাছমিনা খাতুন বলেন, এনিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক আমাদের নিকট আবেদন করলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুর্নবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ঘোড়াঘাটে করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শতাধিক বসতবাড়ি, আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

Share the post

Share the postশাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক বসতবাড়ি। নদীর তীব্র ভাঙনে যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষের। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অসহায় পরিবারগুলো। উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা […]

ফরিদপুরে বিএসটিআইর মোবাইল কোর্ট: ৩ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Share the post

Share the postমো: মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ মোবাইল কোর্টে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় মোট তিনটি মামলায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অননুমোদিত খাদ্য রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ফরিদপুর […]